রাজপালের মতো ফেঁসেছেন কোন বলি তারকারা?
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৭ এএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রুপালি পর্দায় ন্যায়বিচারের বীর যোদ্ধা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা নায়ক দর্শকের চোখে তারকারা যেন আলোর মানুষ। কিন্তু সেই আলোর নিচেই কখনও কখনও জমে ওঠে অন্ধকারের গল্প। সাম্প্রতিক সময়ে রাজপাল যাদবের আর্থিক জটিলতা ও জেলযাত্রা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে, খ্যাতি আর জনপ্রিয়তা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। জৌলুসের আড়ালে কখন যে অভিযোগের ছায়া ঘনিয়ে আসে, তা টের পান না অনেকেই।
রাজপালের ঘটনা সামনে আসতেই আবার আলোচনায় ফিরেছে বলিউডের আরও কয়েকটি পরিচিত নাম। পর্দায় যাঁরা হাসান, কাঁদান, নায়কোচিত সাহসে মুগ্ধ করেন, বাস্তব জীবনে তাঁদের কারও কারও পথও গিয়ে ঠেকেছে সংশোধনাগারের দরজায়। কখনও অস্ত্র রাখার অভিযোগ, কখনও বন্যপ্রাণী হত্যার দায়, আবার কখনও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অভিযোগে আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন একাধিক তারকা।

সঞ্জয় দত্তের নাম এই তালিকায় বহুবার ফিরে আসে। নব্বইয়ের দশকের মুম্বই বিস্ফোরণ তদন্তে বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দীর্ঘ সময় কারাবাস করতে হয়েছিল। সেই সময় বলিউডের জনপ্রিয় নায়ক বাস্তবের কঠিন দেয়ালের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন, যা তাঁর কর্মজীবনেও বড় ছাপ ফেলেছিল।
সালমান খানের ক্ষেত্রেও বিতর্কের ছায়া কম নয়। কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ থেকে শুরু করে সড়ক দুর্ঘটনার মামলা একাধিক ঘটনায় তাঁকে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সংশোধনাগারের অভিজ্ঞতাও তাঁর জীবনের অংশ হয়ে রয়েছে, যা বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের তারকাদের মধ্যেও আইনি নোটিস ও অভিযোগের ছায়া দেখা গেছে। রণবীর সিংহ একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অঙ্গভঙ্গির কারণে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে আইনি নোটিস পেয়েছেন বলে খবর ছড়ায়। একইভাবে মনোজ বাজপেয়ীকেও একটি চলচ্চিত্রের নাম ও বিষয়বস্তুকে ঘিরে অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও এসব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত রায় এখনো অনিশ্চিত, তবু আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তাঁদের ক্যারিয়ারে এক ভিন্ন অধ্যায় যোগ করেছে।
রাজপাল যাদবের সাম্প্রতিক বিপর্যয় যেন সেই পুরনো প্রশ্নই আবার সামনে এনেছে তারকারা কি সত্যিই আলাদা? নাকি আলো আর করতালির আড়ালেও তাঁদের জীবন অন্য সবার মতোই দায়বদ্ধ আইনের কাছে? রুপালি পর্দার নায়করা বাস্তবের আদালতে দাঁড়ালে গ্ল্যামারের মোহ ভেঙে যায়, আর তখন স্পষ্ট হয় একটাই সত্য খ্যাতি নয়, শেষ কথা বলে আইনই।
পিআর/টিকে