© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সংগীত ও পর্যটনে নতুন ঠিকানা গাবালা, আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসবের জাঁকজমকপূর্ণ সূচনা

শেয়ার করুন:
সংগীত ও পর্যটনে নতুন ঠিকানা গাবালা, আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসবের জাঁকজমকপূর্ণ সূচনা

ছবি: সংগৃহীত

মোঃ তারিক কায়সার বাপ্পী
১২:৫৪ পিএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আজারবাইজানের পাহাড়ঘেরা শহর গাবালা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক সংগীত ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। ছয় ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ‘উইন্টার টেল’ আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসব, যা দেশটির সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসব আজারবাইজানের ঐতিহ্য, বিশ্বসংগীতের বৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতার এক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

উজেইর হাজিবেইলি নামাঙ্কিত বাকু সংগীত একাডেমির আয়োজনে এবং হায়দার আলিয়েভ ফাউন্ডেশন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও গিলান গ্রুপের সহায়তায় আয়োজিত এই উৎসব গত বছরের প্রথম আয়োজনের পর থেকেই গুরুত্ব বাড়িয়েছে। দ্বিতীয় আসরে আরও বিস্তৃত কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ উৎসবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এটি শুধু একটি সংগীত উৎসব নয়, বরং আজারবাইজানের সাংস্কৃতিক কূটনীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। গাবালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য-সবুজ পাহাড়, হ্রদ ও শীতকালীন পরিবেশ-এই উৎসবকে দিয়েছে অনন্য মাত্রা।

উদ্বোধনী সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ভিভা অপেরা’ শীর্ষক পরিবেশনা। আজারবাইজান রাষ্ট্রীয় একাডেমিক অপেরা ও ব্যালে থিয়েটারের সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা সম্মানিত শিল্পী আইয়ুব গুলিয়েভের পরিচালনায় পরিবেশন করে বিশ্বখ্যাত ইতালীয় সুরকার জুসেপ্পে ভেরদি, রোসিনি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সুরকারদের অপেরা থেকে নির্বাচিত আরিয়া। পাশাপাশি পরিবেশিত হয় আজারবাইজানের জনপ্রিয় লোকগান ‘আমি রাস্তায় জল ছিটিয়েছি’ এবং এম. মিরজায়েভের ‘আজারবাইজানি নৃত্য’। দেশি-বিদেশি সুরের এই সংমিশ্রণ দর্শকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়ায়।

মঞ্চে একক শিল্পী হিসেবে অংশ নেন আফাগ আব্বাসোভা, আইতাজ শিখালিজাদে, আজের জাদে ও মাহির তাঘিজাদে। তাঁদের পরিবেশনা উৎসবের আন্তর্জাতিক মান ও শিল্পগুণকে আরও সমৃদ্ধ করে। সংগীতের মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্য ও বৈশ্বিক ধারার এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে এই আয়োজনে।

সাত ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ‘বাকু-নেপলস: সংগীত সেতু’ শীর্ষক চেম্বার সংগীত সন্ধ্যা, যেখানে আজারবাইজান ও ইতালির সুরকারদের রচনা পরিবেশিত হয়। এই আয়োজন দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধুত্বকে নতুন মাত্রা দেয় এবং সংগীতকে আন্তর্জাতিক সংলাপের মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরে।

উৎসবকে ঘিরে গাবালা এখন শুধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নয়, বরং পর্যটনেরও আকর্ষণীয় গন্তব্য। পাহাড়ি প্রকৃতি, শীতকালীন ক্রীড়া, ভ্রমণ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে বিশ্বমানের সংগীত আয়োজন মিলিয়ে শহরটি বছরজুড়ে পর্যটকদের টানছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গাবালাকে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পর্যটনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ স্পষ্ট হয়ে উঠছে এই উৎসবের মাধ্যমে।

‘উইন্টার টেল’ উৎসব প্রমাণ করেছে, সংগীত শুধু বিনোদন নয়; এটি সংস্কৃতি, কূটনীতি ও অর্থনীতিরও শক্তিশালী মাধ্যম। গাবালার এই আয়োজন আগামী দিনে আজারবাইজানকে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টিকে/

মন্তব্য করুন