© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্বের প্রথম ভোট বাংলাদেশে

শেয়ার করুন:
জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্বের প্রথম ভোট বাংলাদেশে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:০৪ পিএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জেনারেশন–জেড বা জেন–জিদের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে আজ শুরু হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের নেতৃত্বে সরকার পতনের পর বিশ্বের প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবারের নির্বাচনের ফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক মাসব্যাপী সহিংস আন্দোলন ও অস্থিরতায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশটির শিল্পখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

রয়টার্স আরও জানায়, একই ধরনের গণআন্দোলনের পর আগামী মাসে নেপালেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের এই নির্বাচনে প্রধান দুটি জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট। একসময় তারা মিত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার আলাদাভাবে লড়ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় ভোটকেন্দ্র খোলার আগেই সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তাদের একজন ৩৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ জোবায়ের হোসেন জানান, তিনি সর্বশেষ ভোট দিয়েছিলেন ২০০৮ সালে। তার ভাষায়, দীর্ঘ ১৭ বছর পর অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি রোমাঞ্চিত।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ এবং তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এর জেরে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের অবনতি এবং বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের দাবি, হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে বিরোধীদের বর্জন ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ছিল।
এবার জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই স্বতন্ত্র। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। অন্তত ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেওয়ায় এটি দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে রেকর্ড।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ নির্বাচনকে কেবল নিয়মিত ভোট নয়, বরং দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে গণজাগরণের সাংবিধানিক প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে সংবিধান সংস্কারের একাধিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে-নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার বিষয়গুলো এর মধ্যে রয়েছে।

নির্বাচনী প্রচার মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক থমাস কিয়ান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং ফলাফল মেনে নেওয়াই এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের নিরাপত্তায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হবে এবং মধ্যরাতের দিকে প্রাথমিক ফল পাওয়া যেতে পারে।

ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ, যার ৪৯ শতাংশ নারী। তবে নারী প্রার্থী মাত্র ৮৩ জন। মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে, যাদের অনেকে প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন অস্থায়ী কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে।

নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে বিএনপির তারেক রহমান ও জামায়াতের শফিকুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে সব ভোটার সমানভাবে উৎসাহী নন-কেউ অর্থাভাবে গ্রামে যেতে পারছেন না, কেউ আবার প্রিয় দল অংশ না নেওয়ায় হতাশ। তবু অনেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাদের মতে-এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।

সূত্র: রয়টার্স।

কেএন/টিকে

মন্তব্য করুন