মানুষ যাতে নিরাপদ বোধ করে, সেটিই লক্ষ্য: তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৬ এএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় দেড় যুগ পর নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে সপরিবারে ভোট দিলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তারাও ভোট দেন।
ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তারেক রহমান বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আগেও বলেছি, জয়লাভ করলে সবচেয়ে বেশি কাজ করা হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে।
সারাদেশ থেকে গত রাতে পাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে সেসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যা তাঁর কাছে আশাব্যঞ্জক বলে মনে হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা করবেন। দেশের মানুষ যদি নির্বিঘ্নে ভোট দেন, তাহলে যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব। তবে গত বুধবার রাতে কিছু জায়গা থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত খবর পেয়েছি, যেটি কাম্য নয়।
নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। তাঁর ভাষায়, সাধারণ মানুষ যাতে দেশে নিরাপদ বোধ করেন, সেটিই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
ভোট দেওয়ার পর বাসায় ফিরে পরিবারের তিন সদস্যের হাতের অমোচনীয় কালি তুলে ধরে ছবি তোলেন তারেক রহমান। কিছু সময় পর তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখেন।
ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে তিনি লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন। প্রায় ১৭ বছর পর তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন গত ২৫ ডিসেম্বর। কয়েক দিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর তারেক রহমান হারান তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। এর ১০ দিন পর গত ৯ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের পদে অভিষিক্ত হন তিনি।
নিজ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি মিরপুর, তেজগাঁও সড়ক হয়ে গুলশানে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং বিতর্কহীন হয়, তাহলে কেন ফল মেনে নেব না? সব দলই মেনে নেবে। তবে একটি শর্ত আছে– নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। আমরা যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি, মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে– এ ধরনের বিষয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের একটি নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে। সেই সময়ের মধ্যেই জনগণ ফল দেখতে পারবে।
‘দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি’
জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া- ৬ এবং ঢাকা- ১৭ আসনে ইতিমধ্যে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বুধবার রাত থেকে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিভিন্ন ধরনের কারচুপি, জালিয়াতি, কেন্দ্র দখলসহ নানা অপরাধে সম্পৃক্ত ছিল। তারপরও জনগণের আন্তরিক ভালোবাসা ও সমর্থনে আমরা দেখেছি ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল সংখ্যক আসনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অনেকেই এরই মাঝে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত বিএনপি ইনশাল্লাহ জনসমর্থন নিয়ে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ভোটের হিসাব ও আসনভিত্তিক বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে, এই বিজয় নিয়ে আমরা আত্নবিশ্বাসী।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনে দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় অনেক ধরনের কারচুপি, জালিয়াতি এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষভাবে, নির্দিষ্ট কিছু আসনে কিছু প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনার জন্য ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। এটি বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। শুধুমাত্র ঢাকা শহরে ঢাকা-৮, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৬ সহ বেশ কিছু আসনে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব করা হয়েছে এবং হচ্ছে।
এর আগে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। পরাজয়ের শঙ্কায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বুধবার রাত থেকে অনেক জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস বেশ কিছু ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচনের ফল ঘোষণা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নির্বাচনী পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখার আহ্বান জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের অপপ্রয়াস সফল হবে না। তার প্রমাণ হিসেবে দেশজুড়ে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটদানে অংশগ্রহণ করছেন।
কেএন/টিকে