বেইজিংয়ের সঙ্গে উদ্বেগের মধ্যেই চীনা নৌযান জব্দ করল জাপান
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৮ এএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের সঙ্গে চলমান উদ্বেগের মধ্যেই পূর্ব চীন সাগরে একটি মাছধরা চীনা নৌযান জব্দ করেছে জাপানের কোস্টগার্ড বাহিনী। ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কিউশু দ্বীপের নাগাসাকি জেলার কাছে সাগরের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে নৌযানটিকে জব্দ করা হয়েছে।
এ সময় ক্যাপ্টেনসহ মোট ১১ জন মৎসজীবী-নাবিক ছিলেন নৌযানটিতে। তাদের সবাইকে আটক করেছে জাপানের কোস্টগার্ড বাহিনী।
এক বিবৃতিতে কোস্টগার্ড বাহিনী বলেছে, “জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে একটি মাছধরা চীনা নৌযান শনাক্ত করার পর সেটিকে থামার জন্য সংকেত দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু নৌযানটি তা না মেনে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় সেটিকে ধাওয়া করে আটক করা হয়েছে। নৌযানটিতে ক্যাপ্টেনসহ ১১ জন মৎসজীবী-নাবিক ছিলেন। তারা সবাই বর্তমানে হেফাজতে আছেন।”
দীর্ঘ চার বছর পর চীনের কোনো নৌযান জব্দ করল জাপান। এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালে চীনের নৌযান জব্দ করেছিল জাপানের কোস্টগার্ড বাহিনী। এমন এক সময় চীনের নৌযান জব্দ করল জাপানের কোস্টগার্ড বাহিনী, যখন স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপভূখণ্ড তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ চলছে টোকিওর।
স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপভূখণ্ড তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের ভূখণ্ডের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে দাবি করে আসছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ সেই দাবির প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে। তাইওয়ান চীনের দখলে আসে ১৯৪৫ সালে। তার আগে কয়েক দশক পর্যন্ত জাপানের দখলে ছিল এই ভূখণ্ড।
১৯৪৫ সালের পর থেকে এতদিন পর্যন্ত তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সঙ্গে টোকিওর কোনো ঝামেলা হয়নি, তবে দেশটির নতুন প্রধামন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিককালের একটি মন্তব্য এ ইস্যুকে ফের উসকে দিয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হন সানায়ে তাকাইচি। তার পর নভেম্বরে এক জনসভায় চীনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, স্বায়ত্বশাসিত তাইওয়ান ভূখণ্ডে যদি চীন কখনও হামলা চায়, তাহলে সামরিক সহায়তা নিয়ে তাইওয়ানের পাশে থাকবে জাপান।
তাকাইচি এই মন্তব্য করার পর প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বেইজিং। কিন্তু জাপানের সরকার এ বিষয়ে আর অগ্রসর না হওয়ায় সেখানেই থেমে গিয়েছিল ব্যাপারটি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাপানের জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস জয় পান তাকাইচি। তার পরের দিনই তাকে সতর্কবার্তা দেয় বেইজিং। ৯ ফেব্রুয়ারি চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদসম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “জাপানের কট্টর ডানপন্থি শক্তি যদি পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণে ভুল করে এবং তাইওয়ান ইস্যুতে বেপরোয়া কোনো পদক্ষেপ নেয় তাহলে চীন ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাবে এবং চীন যে কোনো বেপরোয়া পদক্ষেপের সমুচিত জবাব দেবে।”
তবে নৌযান আটকের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেইজিং।
সূত্র : বিবিসি/সিএনএ
এসএস/টিএ