ভোট দেয়ায় তালাকপ্রাপ্ত সেই গৃহবধূর পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৬ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ফেনীতে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেয়ার অপরাধে স্ত্রীকে তালাক দেয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকার ওই বাড়িতে রাজনৈতিক ও সামাজিক মানুষের ভিড়ে পরিস্থিতি কিছুটা ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
এর আগে বৃহস্পতিবার জহুরাকে তালাক দেয় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার। এদিকে ঘটনার পর জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গেলেও শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে আসে কাওসার। এসময় স্থানীয় লোকজনের চাপের মুখে নিজের ভুল স্বীকার করেন। সবার সঙ্গে আলোচনা করে জানান, একজন মুফতির পরামর্শ নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ফের সংসার করতে চান। যদিও ঘটনার পর থেকে জহুরা তার শাশুড়ি ও তিন সন্তান নিয়ে শশুরের ঘরেই অবস্থান করছেন।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় জহুরার সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপি নেতারা। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা, ধর্মপুর ইউনিয়ন সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জহুরা, তার শাশুড়ি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
এসময় বিপ্লব জানান, বিএনপি জহুরার বিপদে পাশে আছে। তার সংসার পুনর্স্থাপন, পরিচালনা ও সন্তানদের ভরণপোষণেও বিএনপি পাশে থাকবে।
আর ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুস ছাত্তার জানান, জহুরাকে সব ধরনের আইনি ও সামাজিক সহায়তা দেয়া হবে।
এদিকে জহুরা জানান, জীবনের প্রথম ভোট তাও আবার ধানের শীষে প্রয়োগ করেন। এ কারণে তাকে মৌখিকভাবে তালাক দেয়া হয়। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সমাধানের মধ্যে কাওসারের সংসারেই আমৃত্যু কাটাতে চান।
আর কাওসারের মা শরীফা খাতুন জানান, তার ছেলে যে অপরাধ করেছে তার জন্য শাস্তি পেতে হবে। কাওসার ঘরে ফিরতে হলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েই বসবাস করতে হবে। জহুরাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে কাওসারকে আর বাবার ঘরে জায়গা দেয়া হবে না বলেও জানান তার মা।
এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দিতে যাওয়ায় জহুরাকে তালাক দেন তার স্বামী কাওসার। এ খবরে স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটক রাখে। স্ত্রীকে দেয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নিবে এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায় সে। কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে। তিন সন্তান নিয়ে জহুরা পড়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই বাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার। এর মধ্যে তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮), ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান জন্ম নেয়।
বাবার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার ফেনী শহরের রেল গেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সে অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতো।
এসকে/টিএ