বগুড়ায় ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০৬ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে মো. ফাহিম হাসান (১৯) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহিম বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য এবং স্থানীয় একটি ঢালাই কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তিনি মাটিডালী দক্ষিণ নওদাপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।
ফাহিমের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।’
স্বজনদের দাবি, বোনের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভ থেকে তনয় নামের এক ছাত্রলীগ নেতা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফাহিম কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তনয় নামের ওই যুবক ফাহিমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুপুর পৌনে ১২ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হামলায় সাব্বির শেখ নামে আরো এক যুবক আহত হয়েছেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তনয় নিহত ফাহিমের বোনকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবার তাতে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিনের একটি বিরোধ তৈরি হয়। এই ব্যক্তিগত শত্রুতার পাশাপাশি নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
ফাহিমের বোনের স্বামী মো. সেতু মিয়া জানান, এর আগে ঘাতক তনয় তাকেও ছুরিকাঘাত করেছিল। ফাহিম ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টিও হামলাকারীদের ক্ষুব্ধ করেছিল। মূলত ব্যক্তিগত আক্রশ ও রাজনৈতিক বিরোধ মিলিয়েই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তনয় পলাতক রয়েছেন। নিহতের লাশ বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসকে/টিএ