সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৫ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব
১. আজকের সাংবাদিক সম্মেলন দেখলাম। এক পর্যায়ে বিএনপি প্রধানের উত্তরে হল ভর্তি সাংবাদিকদের তালি। একবার না, দুবার না, বেশ কয়েকবার। ঠিক বুঝলাম না। বিদেশি সাংবাদিকেরা প্রত্যেকেই কঠিন প্রশ্নই করছিলেন। বিএনপি নেতারা জবাব দিয়েছেন তাদের মত করে। সিরিয়াস বিষয়। সিরিয়াস উত্তর। যেমনটা হওয়া উচিৎ। কিন্তু বেশির ভাগ দেশি সাংবাদিকরা মনে হয় ভুলে গেলেন যে এটা কোন দলীয় সভা নয়। নিজের পেশাদারিত্ব, নিজের সম্মান নিজেরা ধরে না রাখলে আর কে রাখবে?
২. এক পর্যায়ে সাংবাদিক বন্ধু খালেদ মহিউদ্দিন মাইক নিলেন। তিনি তার প্রশ্ন করলেন। করতে করতে এক পর্যায়ে গদগদ হয়ে জনাব তারেক রহমানকে বললেন "যদি অভয় দেন, তাহলে জিজ্ঞেস করি"।
কেন? আপনার কাজ কঠিন প্রশ্ন করা এবং আপনি তাই করছেন। এখানে অভয় দেয়ার প্রশ্ন আসছে কি করে? এভাবে নিজেকে পাওয়ারের সামনে আপনারা হাল্কা করেন কেন আমি সত্যি বুঝি না। আপনি হয়তো ভাবছেন আপনি একটা দেশি ঠাট্টা করলেন, কিন্তু সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে তো একটা টোনও সেট করলেন, সিগ্নাল দিলেন -- যে মিডিয়া থেকে প্রশ্ন করা যাবে শুধু যদি "অভয়" পাওয়া যায়।
আরেকটু পেশাদারিত্ব প্লিজ।
৩. এদিকে ডিজিটালে ফটো কার্ড হিট জব তো চলছেই। চটকদার হেডলাইন, কিন্তু ভিতরে খবরে তেমন কিছুই নাই। ধরেই নেয় কেউ খবর পড়বে না এবং শুধু শেয়ার করবে। আর সেই সাথে একটা মানুষের কষ্ট করে গড়া রেপুটেশন বা প্রচেষ্টা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস। রিজয়েন্ডার আর কেউ পড়ে না। এখানে নেই কোন জবাবদিহিতা।
৪. CAO প্রেস স্পোক্সপারসন শফিক সাহেব তার দায়িত্ব শেষ করলেন আরেকটা এমন অপেশাদার কাজ করে। তিনি নারী প্রার্থীদের পরাজয়ের জন্য অদ্ভুত ভাবেই দায়ী করলেন নারী সংগঠনের মানুষদেরকে। তীব্র প্রতিক্রিয়াও এল। এটা নতুন কিছু না। এই দায়িত্ব নেয়ার পুরো ১৮ মাস কমিউনিকেশনের কার্ডিনাল নিয়মটা তিনি ফলো করলেন না - "Don't be the news". উনি নিয়মিত নিজের মতামত দিয়ে নিজেই নিউজ হলেন। যেখানে তার কাজ হল সরকারের অফিশিয়াল মুখপাত্র হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারের অবস্থান, নীতি এবং সিদ্ধান্ত মিডিয়া ও জনগণের কাছে তুলে ধরা।
তিনি মনে করলেন এটা তার ফেসবুক এবং তিনি যা ভালো মনে করেন, বিশ্বাস করেন, তাই বলবেন তা যত বিতর্কিতই হোক না কেন। কিন্তু একজন পেশাদার চিফ স্পোক্সপারসন হিসেবে তিনি যে সরকারের সবচেয়ে উপরের মানুষটি এবং সেই সাথে সরকারকে রেপ্রেসেন্ট করছেন এটা ভুলে গেলেন। নিজের ওজন নিজেই কমিয়ে দিলেন।
সেই সাথে সরকারেরও।
৫. বাংলাদেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে স্বাধীন, পেশাদার সাংবাদিকতা পারে জনগণকে সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে। পেশাদারিত্ব কমিয়ে নিজেদের হালকা করে দিয়েন না সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, প্লিজ।
আসিফ সালেহ, নির্বাহী পরিচালক, ব্রাক