সংসদ সদস্যরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫০ এএম | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। একই দিন সন্ধ্যায় শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) শুধু আইন প্রণয়ন ও জনগণের প্রতিনিধিত্বই করেন না রাষ্ট্র তাদের জন্য নির্ধারণ করেছে সম্মানী-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার একটি বিস্তৃত কাঠামো।
এই সুবিধাগুলো নির্ধারিত হয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ-১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময় সময় সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়েছে। নিচে আইনি কাঠামো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এমপিদের প্রাপ্ত প্রধান সুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো—
মাসিক সম্মানী
সংসদ সদস্যরা মাসিক ৫৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী পান। এটি তাদের মূল পারিশ্রমিক, যা পুরো দায়িত্বকাল জুড়েই প্রযোজ্য।
নির্বাচনী এলাকা ভাতা
নির্বাচনী এলাকায় কাজ পরিচালনা, জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য এমপিরা পান মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
আপ্যায়ন ভাতা
অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক যোগাযোগ ইত্যাদির জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত।
শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা
সংসদ সদস্যদের একটি বড় সুবিধা হলো—দায়িত্বকালীন একটি গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস; কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, ডেভেলপমেন্ট সারচার্জ ও আমদানি পারমিট ফি ছাড়া আমদানির সুযোগ এবং ৫ বছর পর একই শর্তে আরেকটি নতুন গাড়ি আমদানির সুযোগ।
পরিবহন ভাতা
যাতায়াত, জ্বালানি, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন মিলিয়ে এমপিরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান।
অফিস ব্যয় ভাতা
নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
লন্ড্রি ও আনুষঙ্গিক ভাতা
প্রতি মাসে এমপিরা পান—লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় (রান্নার সরঞ্জাম, লিনেন, টয়লেট্রিজ) ৬ হাজার টাকা।
ভ্রমণ ভাতা (সেশন ও কমিটি)
সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে—বিমান/রেল/জাহাজে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ পর্যন্ত ভাতা এবং সড়কপথে ভ্রমণে কিলোমিটারপ্রতি ১০ টাকা পান।
দৈনিক ভাতা
দায়িত্ব পালনের সময় অবস্থান ভাতা—দৈনিক ভাতা ৭৫০–৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ৭৫–২০০ টাকা (উপস্থিতি রেকর্ডভিত্তিক) পান।
দেশে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ
প্রতি বছর এমপিরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমপরিমাণের নন-ট্রান্সফারেবল ট্রাভেল পাস পান।
চিকিৎসা সুবিধা
এমপি ও তাদের পরিবার সদস্যরা প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা এবং মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান।
টেলিফোন সুবিধা
বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ এবং কল ও ভাড়া বাবদ মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা পান।
আরও পড়ুন: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের পর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়: কীভাবে চলবে গণপরিষদ ও জাতীয়
বীমা সুবিধা
দায়িত্বকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা পান।
ঐচ্ছিক অনুদান
জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পান।
কর সুবিধা
এই আদেশ অনুযায়ী প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত।
প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব বনাম রাষ্ট্রীয় সুবিধা
আইন অনুযায়ী এই সুবিধাগুলো এমপিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা, নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিতি নিশ্চিত করা, গণসংযোগ জোরদার এবং প্রশাসনিক কাজ সহজ করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাতার পরিমাণ, সুবিধার পরিধি ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা ও জনসেবার সঙ্গে সুবিধার সামঞ্জস্য নিয়ে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এরইমধ্যে এ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এমপিদের শপথ গ্রহণের পর ওইদিন বিকেলে একই স্থানে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।
বিএনপি জোটের এই বিশাল বিজয়ের পর মন্ত্রিসভায় কারা ঠাঁই পাচ্ছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। বিশেষ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি কতজন নতুন মুখ ও তরুণ প্রতিনিধি থাকছেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।