গোপালগঞ্জে বিএনপি কর্মীসহ ৫ জনকে মারধরের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৩ পিএম | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় এক বিএনপি কর্মীসহ ৫জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ও শিবির কর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ হামলায় আহত দেলোয়ার শেখ (৩৮) বিএনপি কর্মী। তার স্ত্রী আমেনা বেগম (২৬) ও ভাতিজা কাউসার শেখসহ মোট ৫ জন আহত হন। তার মধ্যে তিনজনকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।
প্রধান দুই অভিযুক্ত জিয়ারুল মোল্লা (২৮) ও দিন ইসলাম মোল্লা (২৫)। তারা দুজনের একজন জামায়াতের এবং অন্যজন শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জিয়ারুল মোল্লা সরদারপাড়া গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার ছেলে ও দ্বীন ইসলাম একই গ্রামের জামসেদ মোল্লার ছেলে।
চিকিৎসাধীন বিএনপি কর্মী দেলোয়ার শেখের অভিযোগ, সরদারপাড়া গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার ছেলে জিয়ারুল ও জামসেদ মোল্লার দুই ছেলে নুর ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম জামাত শিবিরের রাজনীতি করে। আর আমরা বিএনপির রাজনীতি করি। নির্বাচনের আগে ওদের বাড়িতে একাধিকবার ভোট চাইতে গেলে তারা বিভিন্ন খারাপ কথা বলে এবং আর ভোট না চাইতে আসার জন্য হুমকি দেয়। তারপর থেকে আমাদের দেখলেই খারাপ কথা বলে।
নির্বাচন পরবর্তী রোববার বিকেলে রাস্তায় গেলে জিয়ারুল, দ্বীন ইসলামসহ সিদ্দিক মোল্লার আরও তিন ছেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা করে এবং মাথায় কোপ দেয়। তখন আমার স্ত্রী, ভাতিজা ও বেড়াতে আসা মেহমান দুইজন ঠেকাতে আসলে তাদের উপর হামলা করে। তখন তাদের চিৎকারের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত দেলোয়ারের স্ত্রী আমেনা বেগম জানান, আমরা বিএনপি করি এ জন্য জামায়াতের লোকজন আমার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করেছে। আমরা ঠেকাতে গেলে আমাদের উপরও হামলা করে। এবারের সংসদ নির্বাচনে তারা জামায়াতের এজেন্ট ছিল। আমরা তাদের কঠোর বিচার চাই।
অভিযুক্ত জিয়ারুল মোল্লা ও দ্বীন ইসলাম মোল্লার বাড়িতে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কল গ্রহণ করেনি।
টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, ঘটনা শোনার পরে সরজমিনে পুলিশ তদন্ত করতে গিয়েছে। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রেজাউল করিম জানান, জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে এটা ঠিক নয়। অভিযুক্তরা জামায়াত-শিবিরের কর্মী নয়। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান জানান, বিষয়টি আমরা জানা নেই। আমি মাত্রজানতে পারলাম। বিষয়টির খোঁজ খবর নেয়া হবে।
এসএস/টিএ