৮৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে জেসি জ্যাকসন
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০৪ পিএম | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা, সুবক্তা ও ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক জেসি জ্যাকসন ৮৪ বছর বয়সে মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তার পরিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ‘দ্যা স্ট্রেইট টাইমস’।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারের পক্ষে তার আজীবন সংগ্রাম বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতা ও মর্যাদার আন্দোলনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন রেইনবো পুশ কোয়ালিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিরল স্নায়ু অবক্ষয়জনিত রোগ প্রগ্রেসিভ সুপ্রানিউক্লিয়ার পালসির চিকিৎসার জন্য গত নভেম্বরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথাও প্রকাশ করেছিলেন।
জানা যায়, যুবক বয়সে জ্যাকসন ছিলেন ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ১৯৬৮ সালে কিং হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি মেমফিসে উপস্থিত ছিলেন পরবর্তীতে তিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং দু’বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে অংশ নিয়ে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের পাশাপাশি বহু শ্বেত উদারপন্থীর সমর্থন পান। ১৯৮৮ সালে তিনি ১১টি অঙ্গরাজ্যে জয় পান এবং প্রায় ৬৮ লাখ ভোট অর্জন করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি, তবু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বের পথ তৈরিতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৪১ সালের ৮ অক্টোবর সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলে জন্মগ্রহণ করেন জ্যাকসন। বর্ণবৈষম্যমূলক জিম ক্রো আইনের মধ্যে তার শৈশব কাটে। কলেজ জীবনে বৈষম্যের প্রতিবাদে তিনি আন্দোলনে জড়ান এবং ‘শুধু শ্বেতাঙ্গদের জন্য’ লাইব্রেরিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে গ্রেফতার হন। ১৯৬৮ সালে ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর তিনি কিংয়ের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরে নিজস্ব সংগঠন ‘অপারেশন পুশ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৮৪ সালে ‘ন্যাশনাল রেইনবো কোয়ালিশন’ গঠন করেন। দুটি সংগঠন একীভূত হয়ে ‘রেইনবো-পুশ কোয়ালিশন’ হয়, যার নেতৃত্ব তিনি পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেন।
২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কাছ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ লাভ করেন।
এমকে/টিএ