© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কী কী সুবিধা পাবেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা?

শেয়ার করুন:
কী কী সুবিধা পাবেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২৫ এএম | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী। ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করেছে বিএনপি।

শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠিত হয়  বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ার) সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।  শপথ গ্রহণের পর তারা পতাকাবাহী সরকারি গাড়িতে করে বাড়ি ফিরেছেন।
 
এবার দেখে নেয়া যাক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা কী কী সুবিধা পাচ্ছেন। যদিও এরইমধ্য নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) ডিউটি ফ্রি (শুল্কমুক্ত) গাড়ি বা প্লট নেবেন না।
  
তারপরও তাদের জন্য সরকারি বরাদ্দে যা থাকছে-
 
গাড়ি-বাড়ি, বেতন ও সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচসহ অন্তত ১৩ ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এসব সুবিধাভোগী হবেন। বিগত সরকারগুলোর মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টারাও এসব সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন।
 
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন তা নির্ধারণ করা আছে সংবিধানের দ্য মিনিস্টার্স এবং মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলাইজ) অ্যাক্টে। এর বাইরে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা সরকারের পক্ষ থেকে এমপিদের দেয়া হয়। এ ছাড়া রাজধানীতে যাদের থাকার স্থায়ী জায়গা নেই, তাদের অনেককে প্লটও বরাদ্দ দিয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এবার এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে।
 
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার এমপিদের শপথ গ্রহণ শেষে সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকেও একই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
  
জানা যায়, সংবিধানের ৭৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, যে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দেবেন। সেটা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া থাকবে। এভাবে প্রতি বছর তারা সম্পদের হিসাব দেবেন।
 
রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রম অনুযায়ী চিফ হুইপ এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন। হুইপরা ভোগ করেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা। স্পিকারের পদমর্যাদা প্রধানমন্ত্রীর পরই। এ ছাড়া ডেপুটি স্পিকার মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে থাকেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন।
 
বেতন-বাড়ি-
 
একজন মন্ত্রী পদ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারা সরকারি ব্যয়ে সুসজ্জিত বাসভবন পাবেন বিনা ভাড়ায়। এ ছাড়া যখন প্রয়োজন বাসার সব মেরামতও সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে। প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তবে তারা কেউ সরকারি বাড়িতে থাকতে না চাইলে একজন মন্ত্রী বাসা ভাড়া বাবদ মাসে ৮০ হাজার টাকা পাবেন। প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী পাবেন ৭০ হাজার টাকা। নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে থাকলে ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিন মাসের বাড়ি ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা তারা প্রতিবছর পাবেন। বাসভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোনের যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে। সরকারি বাড়ির সাজসজ্জার জন্য একজন মন্ত্রী পাঁচ লাখ এবং প্রতিমন্ত্রী চার লাখ টাকা পাবেন প্রতিবছর।
  
গাড়ি সুবিধা-
 
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে গাড়ি পাবেন। সরকারের পরিবহন পুল থেকে এই গাড়ি সরবরাহ করা হবে। প্রতিদিন ১৮ লিটার জ্বালানি তেল বা সমপরিমাণ অর্থ পাবেন গাড়ির জ্বালানি বাবদ। সরকারি প্রয়োজনে বা নির্বাচনী এলাকায় ভ্রমণের সময় মন্ত্রণালয়ের অধীন যে কোনো সংস্থা বা দপ্তর থেকে একটি জিপ পাবেন তারা। দেশের ভেতরে কোথাও ভ্রমণে গেলে দৈনিক ভাতা পাবেন দুই হাজার টাকা করে। উপমন্ত্রী পাবেন দেড় হাজার টাকা। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে ১০ লাখ টাকা বীমা সুবিধা পাবেন তারা।
 
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সহায়ক ব্যক্তি সুবিধা
 
একজন মন্ত্রী তার পছন্দ অনুযায়ী উপসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পাবেন। এ ছাড়া তারা একজন সহকারী একান্ত সচিব পাবেন। পাবেন দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। এগুলো তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিকে তারা নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ছাড়া একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুজন অফিস সহায়ক ও একজন বাবুর্চি পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এসব সুবিধা কিছুটা কম পাবেন। দুজনের পরিবর্তে একজন অফিস সহকারী, একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পাবেন তারা।
 
চিকিৎসা-
 
মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার পুরো ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। সেই খরচের কোনো সীমা আইনে বেঁধে দেয়া নেই। তবে চিকিৎসা খরচের ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে
 
আপ্যায়ন-
  
দেশি-বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য একজন মন্ত্রী মাসে ১০ হাজার টাকা করে আপ্যায়ন ভাতা পাবেন। আর প্রতিমন্ত্রী পাবেন সাড়ে সাত হাজার টাকা। উপমন্ত্রী পাবেন পাঁচ হাজার টাকা
 
এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দ-
 
নিজের নির্বাচনী এলাকার মসজিদ, মন্দির উন্নয়নসহ এলাকার মানুষের দাতব্য কাজে একজন মন্ত্রী বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী পাবেন সাড়ে সাত লাখ এবং উপমন্ত্রী পাবেন পাঁচ লাখ। এ টাকার মধ্যে একজন মন্ত্রী চাইলে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দিতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী দিতে পারবেন ৩৫ হাজার ও উপমন্ত্রী দিতে পারবেন ২৫ হাজার টাকা।
 
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও সুবিধাদি নির্ধারণ করা রয়েছে দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্টের মাধ্যমে। সেখানে বলা আছে, একজন প্রধানমন্ত্রী মাসে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাবেন। এর সঙ্গে বাড়ি ভাড়া হিসেবে পাবেন এক লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিনোদনের জন্য ব্যয় করা সম্পূর্ণ অর্থই তিনি পাবেন ভাতা হিসেবে। তার অফিস থেকে বাসা এবং বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের সব খরচও বহন করবে রাষ্ট্র। এ ছাড়া তিনি আরও অনেক সুবিধা রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে পেয়ে থাকেন।
 
এমপিদের সুযোগ-সুবিধা-
 
এমপিরা মাসে বেতন হিসেবে ৫৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। তবে অতীতে দেখা গেছে, বেতনের বাইরেও এলাকার উন্নয়নে তাদের পৃথকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাত দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের নজির রয়েছে। এ ছাড়া তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি নিয়েছেন। প্লটও পেয়েছেন অনেকে।

এমআই/এসএন

মন্তব্য করুন