© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা ইজারাদারকে কল করে হাসনাতের সর্তকবার্তা

শেয়ার করুন:
চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা ইজারাদারকে কল করে হাসনাতের সর্তকবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:১৮ পিএম | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
শপথ নিয়ে এলাকায় এসেই চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা এক ইজারাদারকে কল করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ ঘটনার দুই মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার নিউ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল ভিডিওতে হাসনাত আবদুল্লাহকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি ইজারা তুলবেন বাজার থেকে। বাজারের বাইরে চাঁদা তুলতে আসবেন না। দেবিদ্বারে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। আপনি শুধুমাত্র কাঁচা বাজারের ইজারা নিয়েছেন। আপনি কাঁচা বাজারের এদিকে যদি আসেন, মানুষ আপনাকে ধরে পিটাইয়া পুলিশের হাতে তুলে দেন আমাদের কিছুই করার নাই।
 
তিনি আরো বলেন, ‘চাঁদাবাজদের মানুষ ধরে পিটাবে, বুঝছেন?’ ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আমাকে শোধন ডিলার পাঠাইছে’। প্রত্যুত্তরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘শোধন ডিলার আপনাকে পাঠাইছে, আপনি চাঁদা তোলেন। আমি যদি আপনাকে বলি আপনি এই বাড়িতে গিয়ে খুন করে আসেন, আপনি খুন করে আসবেন? কালকে থেকে যেন আপনাকে না দেখি।’

এসময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘কাল থেকে যদি চাঁদার জন্য আসে আপনারা বেঁধে রাখবেন। শাহ আলমকে বেঁধে খবর দিবেন। আপনার এরিয়া হচ্ছে বাজার, বাজারের বাইরে যদি আপনি আসেন বাইন্ধা পুলিশে দেব।’
 
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগের দেবিদ্বার পৌর কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম চেয়ারম্যান বাজারের ইজারা নিয়েছেন। ওই সময় তিনি বাজারের বাইরে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের মাথা থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকান বসিয়ে মাসিক ও দৈনিক চাঁদা আদায় করতেন। এতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে যানজটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হলেও তার ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতেন না।

সরকার পতনের পর আবুল কাশেম চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেবিদ্বার পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হাজী মো. শোধন মিয়া (শোধন ডিলার)-সহ কয়েক জন বাজার ইজারা নেন। এরপর তারাও নিউ মার্কেটসহ পৌর সভার বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ইচ্ছেমতো দোকান বসিয়ে এককালীন, মাসিক ও দৈনিক চাঁদা উঠান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হলেও তার নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে ফুটপাতসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে এখন ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে।  
 
জানতে চাইলে শোধন ডিলার দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাজার ডাক আমরা ১৬ জনে নিয়েছি। তাছাড়া শাহ আলমকে আমি চাঁদার জন্য পাঠাই নাই। এই দায়-দায়িত্বও আমার না, খোরশেদের। বাজার ইজারার ডিট বাশারের নামে। এটা বাশার বলতে পারেন। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা।’ তবে বাশারকে একাধিকবার কল করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেবিদ্বারে এসি ল‍্যান্ড ও পৌর প্রশাসক মো. ফয়সল উদ্দিন দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কাঁচা বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে, কাউকে ফুটপাত ইজারা দেওয়া হয়নি। উচ্ছেদ অভিযানের পর যারা পুনরায় দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন