একদিনেই ইরানে ৫০ যুদ্ধবিমান পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০৬ পিএম | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানের সাথে বিদ্যমান পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে চরম উত্তেজনার মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ৫০টি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ এর মতো শক্তিশালী স্টিলথ ফাইটার জেটের এই বিশাল বহরকে পেন্টাগনের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্রুত কোনো সম্মানজনক সমঝোতায় না আসে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছে।
পেন্টাগনের এই বিশাল সমরপ্রস্তুতির বিপরীতে পাল্টা শক্তিমত্তা প্রদর্শন করছে তেহরানও। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে ইরানি সামরিক বাহিনী। মহড়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথের একটি অংশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার মতো বিধ্বংসী প্রযুক্তি ও অস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে মজুত রয়েছে।
এমন যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন। আলোচনার পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে অভিহিত করলেও হোয়াইট হাউসের সুর কিছুটা ভিন্ন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো অনেক পথ বাকি এবং যুদ্ধের বদলে শান্তি আসবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ইরানের পরবর্তী প্রস্তাবের ওপর।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। একদিকে তিনি আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির আশা ব্যক্ত করছেন, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দিচ্ছেন কঠোর হুঁশিয়ারি। এমনকি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে ইসরায়েলি বিমান হামলাকে পূর্ণ সমর্থন দেবে ওয়াশিংটন। ফলে একদিকে শান্তির প্রস্তাব এবং অন্যদিকে যুদ্ধের নীল নকশা ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী কৌশল পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, আগামী দুই সপ্তাহ হবে অত্যন্ত সংকটকাল, কারণ এই সময়ের মধ্যেই ইরানকে তাদের নতুন পরমাণু প্রস্তাব পেশ করতে হবে, যা নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের ধোঁয়া উড়বে নাকি কূটনৈতিক সমাধান আসবে।
তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
আইকে/টিএ