এখন নতুন সরকার, আমাদের ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে: নায়াব ইউসুফ
ছবি: সংগৃহীত
১১:১৭ পিএম | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নায়াব ইউসুফ বলেছেন, আজকে আমাকে মাননীয় সংসদ সদস্য বলছেন, অনেক কিছু বলছেন। যেদিন আমার ক্ষমতা থাকবে না, সেদিন কিন্তু আমার সঙ্গে কথা বলার টানও মানুষের মধ্যে থাকবে না। তো সবকিছুই হলো এখানে ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু মানুষের মনে যে আপনি দাগ কাটতে পারবেন, মানুষের দোয়াটা যে পাবেন ওটাই হলো পারফেক্ট। ওটা সারাজীবন থাকবে। আপনি মৃত্যুবরণ করার পরেও সেটা থাকবে।
ফরিদপুরে ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) স্বাস্থ্য ক্যাডারে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নায়াব ইউসুফ বলেন, আমি আপনাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্যই এসেছি। আমি এতটুকু বলব যে আপনাদের কাজ এবং রাজনীতিবিদের কাজ কিন্তু একই ধরনের মানুষের সেবা দেওয়া, মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।
নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, আপনাদের কাছে এতটুকু অনুরোধ করব আপনারা কষ্ট করেছেন এত বছর, ডাক্তারি পাস করেছেন এবং অনেক কষ্ট হয়েছে ডাক্তারি পড়তে।
আপনারা বিসিএস ক্যাডার। আপনারা অনেক চড়াই পার হয়ে এই পর্যন্ত এসেছেন। সৃষ্টিকর্তা আপনাদের এখানে বসিয়েছেন মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য। আপনার কাছে যখন একজন পেশেন্ট আসে, রোগী আসে তারা খুব প্রান্তিক মানুষ থাকে, অসহায়, বিপদগ্রস্ত থাকে তখনই তারা আপনার কাছে আসে। তাই ওই সময় যখন আপনি তাকে সেবাটা দেন, তাকে যখন একটু শান্তি দেন, মনের আত্মার শান্তিটা দেন যে না, অসুখটা সেরে যাবে বা চিকিৎসাটা দেন তারা যখন একটু আশ্বস্ত হয়, এই দোয়াটা কিন্তু আল্লাহর দরবারে যায়। এটাতেই হলো আসল কাজটা। আপনি প্রফেশনে আছেন, কিন্তু এই যে মানুষকে একটা শান্তি দিলেন, আত্মার শান্তি দিলেন ওটাই কিন্তু আসলে আপনাদের অর্জন।
নায়াব ইউসুফ আরও বলেন, আমি যেমন পাঁচ বছরের জন্য এমপি হয়েছি, আপনারা সারাজীবন সেবা দেবেন। আপনারা এমনভাবে সেবা দেবেন। আমি যেমন এখানে পাঁচ বছরের জন্য আমার নির্বাচনে অনেক কষ্ট হয়েছে। সবাই বলছে নির্বাচনে এত কষ্ট। আমি বলছি যে না, নির্বাচনে এটা কোনো কষ্টই না। আমি এমপি হওয়ার পর আমার কষ্ট শুরু হবে। কারণ তখনই আমি কাজ শুরু করব। এখন আমার আসল কাজ। আমি চাই আমি যেমন মানুষের এই পাঁচটা বছর এমনভাবে কাজ করতে চাই, মানুষ যেন মনে রাখে সারাটা জীবন। আমার আব্বার কাছ থেকে আমি সেটাই দেখেছি, আমি সেটাই শিখেছি। আমার আব্বা একসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। উনার কিছু অসমাপ্ত কাজও আছে ফরিদপুরে। কিন্তু এখনো তার কথা যখন বলি, আমরা যখন স্মরণ করি, অনেক মানুষ চোখের পানি ফেলে। ওটাই কিন্তু উনার সদকায়ে জারিয়া। ওটাই কিন্তু উনার কবরে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা সকলে যদি এভাবে কাজটা করি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, মানুষের একটা শান্তি দেওয়ার জন্য তখন দেখবেন সবকিছু সুন্দর থাকবে। আমি ক্ষমতা থেকে চলে গেলেও আমার মনে হবে যে না, আমি তো করে গেছি কিছু কাজ। আমি তো মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে গেছি। ওটাই হবে আমার মনের শান্তি।
নায়াব ইউসুফ আরও বলেন, এখন একটা নতুন সরকার। আমাদের ভেদাভেদ সব ভুলে যেতে হবে। বিএনপি না, জামায়াত না, আওয়ামী লীগ না আমরা। কিন্তু আমার আব্বার কথা একটা বলি উনি সবসময় একটা বলতেন যে আমাদের বাঙালিদের একটা অভ্যাস ১০০ জন যদি থাকি, আমরা ১০টা গ্রুপ করব, ১০টা দল করব। আমরা নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ করি। তাতে কিন্তু আমরা নিজেরাই দুর্বল হয়ে যাই। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা যে রাজনীতি করি, রাজনীতিটা আমাদের মনে রাখতে হবে দেশপ্রেমের কথা, মানুষের কথা। তেমনি আপনারা যে দায়িত্বে আছেন সকলে যে দায়িত্বে আছেন আপনাদের দলের ঊর্ধ্বে উঠে কাজটা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান। ফরিদপুর সিভিল সার্জন নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন/মেডিকেল অফিসার/ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার পদে নব-নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৬ জন চিকিৎসককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এসএস/টিএ