কেন ইফতারের পর ক্লান্তি আসে? দূর করার উপায়
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০৯ পিএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার পর ইফতার আমাদের শরীরে নতুন শক্তি জোগায়। তবে অনেকেই ইফতারের পর অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ভার লাগা বা দুর্বলতা অনুভব করেন। কেন এমন হয় এবং কীভাবে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়—চলুন সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।
কেন ইফতারের পর ক্লান্তি আসে?
১. একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়া
সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে বেশি খাবার খেলে হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হয়ে যায়। তখন শরীরের রক্তপ্রবাহের বড় অংশ অন্ত্রের দিকে চলে যায়, যাতে খাবার দ্রুত হজম হয়। ফলে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্নতা ও ক্লান্তি অনুভূত হয়।
২. অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার
ডুবো তেলে ভাজা খাবার, মসলাদার পদ ও অতিরিক্ত মিষ্টি শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এসব খাবার হজমে বেশি সময় নেয় এবং শরীরকে অবসন্ন করে তোলে।
৩. পানিশূন্যতা
সারাদিন পানি না খাওয়ার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ইফতারে যদি পর্যাপ্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ক্লান্তি আরও বাড়ে।
ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করার উপায়
ধীরে ধীরে খান
ইফতার শুরু করুন একটি খেজুর ও একগ্লাস পানি দিয়ে। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দিন। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খান। এতে হজম সহজ হবে এবং শরীর ভারী লাগবে না।
পানি ও তরল খাবার বাড়ান
ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সঙ্গে রাখতে পারেন— ফল, ফলের রস, শরবত, ডাবের পানি। এগুলো শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
হালকা খাবার বেছে নিন
ভাজাপোড়া কমিয়ে ছোলা, ফল, সালাদ, স্যুপ বা হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এতে শক্তি মিলবে, কিন্তু অতিরিক্ত ভারী লাগবে না।
এক কাপ চা বা কফি
ইফতারের কিছু সময় পর এক কাপ হালকা চা বা কফি পান করতে পারেন। এতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত বা খুব কড়া কফি এড়িয়ে চলাই ভালো।
হাঁটাহাঁটি করুন
ইফতারের পরপরই শুয়ে পড়বেন না। ১০–১৫ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয় এবং শরীর চাঙ্গা থাকে।
নামাজ আদায় করুন
ইফতারের শুরুতে হালকা কিছু খেয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে পারেন। এতে খাবার হজমের জন্য শরীর সময় পায়। নামাজ শেষে ধীরে ধীরে বাকি খাবার গ্রহণ করলে ক্লান্তি কম হয়।
ইফতারের পর ক্লান্তি অনুভব করা স্বাভাবিক। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা শারীরিক নড়াচড়া এই সমস্যাকে অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। রমজানে সুস্থ থাকতে চাই সচেতনতা ও পরিমিত খাবার গ্রহণ।