নিঝুম রুবিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পাল্টা আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা নায়িকার
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩১ এএম | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় চিত্রনায়িকা নিঝুম রুবিনা ও তাঁর স্বামী মামুনুর রশীদ রাহুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি সুরভী বেগম নামে এক নারীর দায়ের করা মামলায় আদালত আসামিদের ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির না হওয়ায় শুনানি শেষে নিঝুম রুবিনা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নিঝুম রুবিনা। তিনি জানান, বাদীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং মামলার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে কিছুই জানতেন না।
বর্তমানে নিঝুম রুবিনা সপরিবারে কাতারে অবস্থান করছেন। গত ৭ জানুয়ারি তিনি পরিবারসহ সেখানে গিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কাতার থেকে মুঠোফোনে দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিঝুম রুবিনা বলেন, যিনি আমি এবং আমার পরিবারের নামে মামলা করেছেন তাকে তো আমি সেভাবে চিনিই না। আজকে নিউজ হওয়ার পর মামলা সম্পর্কে জানতে পারলাম। যেখানে আমি কোনোভাবেই জড়িত না এরকম একটা মামলা দিয়ে আমার মানহানি করা হচ্ছে।
এই মামলায় নিঝুম রুবিনা ও তাঁর স্বামী ছাড়া আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রাহুলের ভাই নান্নু মিয়া ও বোন মহিমা বিবি। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর সুরভী বেগমের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ধার নেন নিঝুম ও রাহুল। ১১ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে তিন দফায় অর্থটি দেওয়া হয় এবং দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের শর্তে একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদিত হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে নিঝুম দাবি করেন, এই লেনদেন তাঁর স্বামীর মাধ্যমে হয়েছিল এবং সেটি ছিল ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নেওয়া সুদের টাকা।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে কিস্তিতে ৪০ হাজার টাকা করে পরিশোধ করছিল তার স্বামী এবং এ বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। গত বছরের অক্টোবরে এ বিষয়ে তিনি জানতে পারেন। ওই নারী সেসময় তার বাসায় এসে সিনক্রিয়েট করার চেষ্টা করলে তাকে থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন নিঝুম রুবিনা।
তিনি আরও জানান, ওই নারী রামপুরা থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশের মধ্যস্থতায় একটি আমাদের সমঝোতা হয়েছিল, যার অংশ হিসেবে নগদ দুই লাখ টাকা পরিশোধ করা হয় এবং বাকি ৯ লাখ টাকা দুই ধাপে (ডিসেম্বর ও মার্চ মাসে) দেওয়ার বিষয়ে সময় নেওয়া হয়েছিল। এমনকি ডিসেম্বর মাসে নায়িকার স্বামী সাড়ে ৪ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য চেক প্রস্তুত করলেও ওই নারী তা নিতে অস্বীকৃতি জানান বলে দাবি তাঁর।
নিঝুম রুবিনা বলেন, ডিসেম্বরে আমার স্বামী চেক রেডি করে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তা নিতে রাজি হননি। ৯ লাখ টাকাসহ কিস্তিতে প্রতি মাসে যে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তা একসঙ্গে পুরোটা দাবি করে বসেন তিনি। এটা তো অযৌক্তিক।
এ মামলায় নায়িকার মানহানি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ওই নারীর বিরুদ্ধে পাল্টা মানহানির মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন নিঝুম রুবিনা। তিনি বলেন, আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী রবিবার আমার মানহানি করার অপরাধে ওই নারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এদিকে নিঝুম রুবিনা জানান সপরিবারে তিনি এখন কাতারেই স্থায়ী হয়েছেন। সহসাই দেশে আসার পরিকল্পনা নেই তার।
আইকে/টিএ