© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এলডিসি থেকে উত্তরণ ৩ বছর স্থগিত চেয়ে জাতিসংঘকে চিঠি

শেয়ার করুন:
এলডিসি থেকে উত্তরণ ৩ বছর স্থগিত চেয়ে জাতিসংঘকে চিঠি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫৯ পিএম | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ (এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন) তিন বছরের জন্য স্থগিত করতে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসিকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সই করা চিঠি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে বলে ইআরডি সূত্রে জানা গেছে। আগামী ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সিডিপির বৈঠকে বাংলাদেশের এ অনুরোধসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।

বাংলাদেশে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন স্থগিতের অনুরোধ করে দেওয়া চিঠিতে উল্লখ করা হয়েছে, সরকার যে প্রিপারেটরি পিরিয়ড পেয়েছিল, তা মূলত কোভিড মহামারি-পরবর্তী পাঁচ বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য ব্যবহারের কথা ছিল।

কিন্তু এই সময়ে একাধিক বৈশ্বিক ধাক্কা অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে, বিশ্বব্যাপী কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি শিপিং খাতে সরবরাহ বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে।

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় কাঠামোগত সংস্কারের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও নীতিগত সমন্বয় সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে উচ্চমাত্রার অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তিন বছরের জন্য একটি ‘ক্রাইসিস অ্যাসেসমেন্ট’ পরিচালনা এবং সম্ভাব্য সময় বৃদ্ধি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির বৈঠকের পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত হতে পারে। এরপর সিডিপি তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আগামী সেপ্টেম্বরে।

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকাভুক্ত হয়।

এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে বাংলাদেশ। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিন সূচকেই উত্তীর্ণ হয় বাংলাদেশ এবং ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। তবে করোনার কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হয়।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন