© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দেশের অর্থনীতিতে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ

শেয়ার করুন:
দেশের অর্থনীতিতে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:১২ পিএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দেশের অর্থনীতিতে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির চাপ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। রপ্তানি আয় কমলেও আমদানির ব্যয় পাল্লা দিয়ে বাড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাড়তি চাহিদার কারণে অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৯৭৬ কোটি (৯.৭৬ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বাড়ায় সাময়িকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই ধারাবাহিক ঘাটতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৩ হাজার ৩৬৮ কোটি (৩৩.৬৮ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ২১২ কোটি (২২.১২ বিলিয়ন) ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ২ হাজার ২৩২ কোটি (২২.৩২ বিলিয়ন) ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানই মূলত বাণিজ্য ঘাটতিকে উসকে দিয়েছে।

বর্তমানে দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। ডিসেম্বর শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫২ কোটি ডলার। সাধারণত চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলে দেশকে নিয়মিত লেনদেনের জন্য ঋণ করতে হয় না।

সামগ্রিক লেনদেনে (ওভারঅল ব্যালেন্স) বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ডিসেম্বর শেষে সামগ্রিক লেনদেনের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১৯৪ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই সূচকে ৪৬ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল।

অর্থনীতির অন্যতম স্বস্তির জায়গা হলো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে প্রবাসীরা ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এফডিআই ছিল ৫৫ কোটি ডলার, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ডলারে। তবে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ চলে গেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ৫ কোটি ডলার।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন