ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১৬ পিএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও মাধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাখুন্ডা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে শহরতলির বাখুন্ডা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও দোকান পরিদর্শন করেন জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন। গেরদা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিলন মেম্বারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা কয়েকটি দোকানসহ সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন ও কর্মী সজিবের বাড়িতে ভাঙচুর করে। ভাঙচুরের সময় জানালার কাচ ভেঙে সজিবের ঘুমন্ত সন্তানের ওপর পড়লে তার বাম কানে জখম হয়। হামলাকারীরা ধাওয়া করে আলমগীর হোসেনের ভাই আজিজুলকে বাড়ির পাশের ফসলের ক্ষেতের মধ্যে ফেলে মারপিট করে। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। এছাড়া লাঠি দিয়ে আলমগীর হোসেনের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় আজিজুলকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলার সময় আক্রান্তরা ৯৯৯-এ ফোন করলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন গেরদা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গন্ডগোল হচ্ছে এমন খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ওই স্থানে দোকানে চা খাওয়ার সময় জুয়েল নামের একজনের ওপর জামায়াত কর্মীরা আক্রমণ করলে গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয়।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর-৩ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব বিএনপি মনোনীত ও ফরিদপুর-৩ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন। তিনি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সামাজিক সম্প্রতি বজায় রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে সকল প্রকার সহিংসতা থেকে বিরত রাখার জন্য তার প্রতি অনুরোধ জানান। ঘটনা অনুসন্ধান করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। প্রশাসনকে সঠিক অবস্থানে থেকে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।
পরিদর্শনকালে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বদরউদ্দিন, সেক্রেটারি প্রফেসর আব্দুল ওহাব, কোতোয়ালী থানা আমির মো. জসীম উদ্দিন, ফরিদপুর পৌর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শামীমসহ নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমআই/টিকে