‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’ লড়াই আজ সন্ধ্যায়
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৬ এএম | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কেউ কেউ এই ম্যাচকে বলছে ফাইনালের আগে ফাইনাল। ভারত তো আগে থেকে ফেভারিট ছিল। কঠিন গ্রুপ থেকে অপরাজিত হিসেবে সুপার এইটে খেলতে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে তারা যেভাবে অনায়াসে হারিয়েছে, তা অন্য দলগুলোর জন্যও হুঁশিয়ারি সংকেত। আজ (রোববার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যখন এই দুই দল মাঠে নামছে, তখন তো একে ‘আরেক ফাইনাল’ বলাই চলে।
এই ম্যাচে জয়-পরাজয়ে এখনই ভারত কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনাল নির্ধারণ হয়ে যাবে না। তবুও এই ম্যাচ নিয়ে উন্মাদনা চলছে। কারণ গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। রান তাড়ায় ৩৫ ওভার পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকা যে ম্যাচ হেরে গিয়েছিল। এরপর ভারতের মাটিতে ভারতকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করে প্রোটিয়ারা। এত সব ঘটনার কারণে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ রূপ নিয়েছে নতুন এক ঝাঁজাল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। সুপার এইটে হতে যাচ্ছে দুই অপরাজিত দলের ব্লকবাস্টার ম্যাচ।
ভারত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মানদণ্ড এতটাই উঁচুতে নিয়ে গেছে— ২০২৪ বিশ্বকাপ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১২-০ এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ৪৫-৪ (২টি ফলহীন) রেকর্ড। এই দাপটের কারণে শতভাগ জয়ের রেকর্ডকে ভারতের জন্য অতি সাধারণ বলে মনে হয়। প্রত্যাশা এতটাই আকাশচুম্বী যে বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।
‘ব্যাটিং বোমাটি ঠিক সেভাবে বিস্ফোরিত হয়নি’, সূর্যকুমার যাদবকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল। ‘আমরা ১৯০ করেছি (নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গত ম্যাচে ১৯৩), আর কী প্রয়োজন।’, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সুপার এইট লড়াইয়ের আগে অধিনায়ক সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন।
সাধারণ উদ্বেগের কারণ মূলত অভিষেক শর্মাকে ঘিরে। এই তারকা ব্যাটার বিশ্বকাপে এখনো তার রানের খাতা খুলতে পারেননি। এমনিতে বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া এই ব্যাটার এবার অস্বাভাবিকভাবে তিনটি ম্যাচে শূন্য রানে (ডাক) ফিরেছেন।
তাকে নিয়ে সূর্যকুমার বললেন, ‘অভিষেকের ফর্ম নিয়ে যারা চিন্তিত, আমি বরং তাদের নিয়েই চিন্তিত। গত বছর সে আমাদের টেনেছে (কভার করেছে), এবার আমরা তার জন্য সেটা করব।’ রোববার রাতের ম্যাচে অভিষেকের জায়গায় সাঞ্জু স্যামসনকে আনার যে কোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
তিলক ভার্মার জায়গায় স্যামসনকে খেলানোর যে জল্পনা চলছিল, অধিনায়ক সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন। তিলকও তার বিধ্বংসী পরিচয়ের প্রতি পুরোপুরি সুবিচার করতে পারেননি, যদিও তিনি অভিষেকের মতো অতটা বাজে ফর্মে ছিলেন না। তবে তিলক ৩ নম্বরেই খেলতে যাচ্ছেন, যদিও ৫ ইনিংসে ১৯০ স্ট্রাইক রেটে দুটি সেঞ্চুরিসহ ২৫৩ রান দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্যামসনের রেকর্ড বেশ ভালো।
ভারতের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ দলের অফ-স্পিনার দিয়ে বোলিং শুরু করাটা হঠাৎ একটি ধরনে পরিণত হয়েছে। এই কৌশলটি এখন পর্যন্ত কাজও করেছে। সালমান আলী আগা ও আরিয়ান দত্ত প্রথম ওভারেই ধাক্কা দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকাও এইডেন মার্করামকে দিয়ে বোলিং শুরু করিয়ে সেই পথ অনুসরণ করবে কি না, তা একটি কৌতূহলের বিষয়। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকানদের ধারণা, তাদের কোচ শুকরি কনরাড প্রথাগত ধারায় বিশ্বাসী নন এবং তিনি হয়তো গতানুগতিক পথে হাঁটবেন না। ‘আমার কোনো ধারণা নেই। সত্যি বলতে জানি না, দেখা যাক।’, কৌশলটি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কুইন্টন ডি কক বলেন।
মুখোমুখি লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের রেকর্ড অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিশ্বকাপে ৫-২ এবং বার্বাডোজের সেই বিখ্যাত ফাইনালের পর থেকে ৭-২ এ এগিয়ে মেন ইন ব্লুরা। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের লিগ পর্যায়ের একটি ম্যাচ বাদে বাকি সব ম্যাচ এখানে আহমেদাবাদে খেলার সুবিধা পেয়েছে, তবে ভারতীয় খেলোয়াড়রাও এই কন্ডিশনের সঙ্গে বেশ পরিচিত।
এই দুটি দল বিশ্বকাপের অন্যতম ফর্মে থাকা দল। তাদের অলরাউন্ড শক্তি এবং লিগ পর্যায়ে নিখুঁত রেকর্ড রয়েছে। ৮ মার্চের ব্লকবাস্টার ফাইনালে যদি এই দুই দল আবারো আহমেদাবাদে মুখোমুখি হয়— যেমনটি তারা দুই বছর আগে বার্বাডোজে করেছিল— তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এবি/টিএ