বেবিচককে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪৭ এএম | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ নিয়ে বিরোধে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ঘোষিত রায়ে এ নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বেবিচক ও বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি) মধ্যে দেনা-পাওনা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন বিচারকের সমন্বয়ে বোর্ডটি গঠন করা হয়েছিল। রায়ের আগে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।
রায় অনুযায়ী, এপিসিএস-৪৮ (সম্পূর্ণ) ও ৫২-৫৪ শিরোনামের কাজের বিপরীতে এডিসিকে ৫৮৯ কোটি ৮৬ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩ জাপানি ইয়েন এবং ২৭২ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩৩১ টাকা পরিশোধ করতে হবে। রিটেনশন মানির দ্বিতীয় অংশ হিসেবে আরও ৬০২ কোটি ৭৭ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৭ টাকা এবং ৪০০ কোটি ৪২ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৭ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিলম্বিত ও অপরিশোধিত অর্থ ও রিটেনশন মানি ছাড়ে দেরির কারণে সৃষ্ট অর্থায়ন চার্জ বাবদ গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ কোটি ২৯ লাখ ৭১ হাজার ১৯১ জাপানি ইয়েন এবং ২৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
রায়ে বলা হয়, কাজের পরিধি বৈধভাবে বাড়ানো হয়নি ও কাজের ডিএনপি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে চুক্তি অনুযায়ী এখনো পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় হয়নি। এডিসির পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত দেওয়ার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
সালিশি বোর্ড উল্লেখ করেছে, অ্যাডজুডিকেশন পদ্ধতির ব্যয় নির্ধারণে বেবিচকের কোনো এখতিয়ার নেই। রায়ের সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে, যদি না পারস্পরিক সমঝোতা বা চূড়ান্ত সালিশি পুরস্কারের মাধ্যমে তা পরিবর্তিত হয়।
বেবিচকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রায়ের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিটা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশন যৌথভাবে ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)’ গঠন করে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজে অংশ নেয়।
এবি/টিএ
এবি/টিএ