ইফতারের পর ক্লান্তি এড়াতে মেনে চলুন বিশেষ নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২০ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রমজানের প্রতিদিনের নিয়মে সারাদিনের রোজার শেষে মাগরিবের আজান শুনে ইফতার করা হয়। অনেকেই মনে করেন, টেবিলে সাজানো নানা পদের খাবার দেখলেই মুহূর্তেই শক্তিশালী হয়ে যাবে শরীর। কিন্তু বাস্তবে এমন হয় না। ইফতার খাওয়ার পরপরই শরীরে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকার পর একবারে অনেক খাবার খাওয়া, পানি কম পান করা এবং যথাযথ নিয়মে নামাজ না পড়ার কারণে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
ইফতারের পর ক্লান্তি এড়াতে কিছু সহজ উপায় মেনে চলা জরুরি। প্রথমত, একবারে অনেক খাবার না খাওয়াই ভালো। টেবিলে থাকা নানা পদ থেকে অল্প অল্প করে খেলে হজমও সহজ হয় এবং শরীর তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয় না। সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকা স্বাভাবিক, তবে খাবারের হজমের জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, পানিশূন্যতা দূর করা প্রয়োজন। সারাদিন পানি পান না করার ফলে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই ইফতারে বিভিন্ন ফল, ফলের রস, শরবত বা ডাবের পানি খাওয়া উচিত। ভাজাপোড়া এবং অতিমসলাদার খাবারের পরিমাণ কমালে শরীরে পানি শোষণ হয় এবং ক্লান্তি কমে।
এছাড়া এককাপ চা বা কফি ইফতারের পর নেওয়া যেতে পারে। এতে থাকা হালকা ক্যাফেইন শরীরকে সতেজ রাখে। তবে খুব শক্ত চা বা কফি না খাওয়াই ভালো এবং এককাপের বেশি না নেওয়াই উপকারী।
ইফতারের পরপরই শুয়ে না থেকে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করাও উপকারী। এতে হজম ভালো হয় এবং ক্লান্তি কমে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরকে স্বাভাবিক রাখলে ক্লান্তি সহজেই দূর হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো ইফতারের শুরুতে খেজুর ও একগ্লাস পানি খেয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করা। নামাজ শেষ হলে বাকি খাবার খাওয়া যেতে পারে। যারা এভাবে অভ্যস্ত, তারা তুলনামূলকভাবে অনেক কম ক্লান্তি অনুভব করেন।
সর্বোপরি, ইফতারে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা পানীয় ও নামাজের মাধ্যমে শরীরকে সতেজ রাখা সম্ভব। এতে রমজানের এই পবিত্র মাসে স্বাস্থ্যকর ইফতার উপভোগ করা যায়।
এমকে/টিএ