সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তিকর নয়, বলেছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৪ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইনস্টাগ্রামের প্রধান আডাম মোসেরি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্লিনিক্যালি আসক্ত’ হওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ইনস্টাগ্রাম কেউ ‘সমস্যাজনক হারে ব্যবহার’ করতে পারে, কিন্তু এটি আসক্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ব্যবহারের মাত্রা ব্যক্তি ভেদে পরিবর্তিত হয় কেউ বেশি সময় দিতে পারে, কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
মামলাটিতে বাদী ২০ বছর বয়সী এক তরুণী, যাকে আদালতে ‘কেলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, মেটা কোম্পানি কিশোরদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য আসক্তিকর ফিচার তৈরি করেছে, যা তার মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রশ্ন করেছিলেন, মুনাফার জন্য কিশোরদের টার্গেট করা হয় কি না। মোসেরি তা অস্বীকার করেন এবং বলেন, কিশোর ব্যবহারকারীদের থেকে তুলনামূলক কম আয় হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, ‘ইনফিনিট স্ক্রল’, ‘অটোপ্লে’, ‘লাইক’ বাটন এবং ‘বিউটি ফিল্টার’ মতো ফিচার কিশোরদের দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপে আটকে রাখে এবং মানসিক প্রভাব ফেলে। আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী একদিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি ইনস্টাগ্রামে কাটিয়েছেন। মোসেরি বলেন, এটি ‘সমস্যাজনক ব্যবহার’ হতে পারে।
মোসেরি তার পারিশ্রমিক সম্পর্কেও জানিয়েছিলেন, তার মূল বেতন বছরে প্রায় ৯ লাখ ডলার এবং বোনাস ও শেয়ারসহ আয় ১–২ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। তবে তিনি জানান, পণ্যের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার ব্যক্তিগত শেয়ার উদ্বেগ প্রভাব ফেলে না।
মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাদীর মানসিক স্বাস্থ্যে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জটিলতাও ছিল, এবং প্ল্যাটফর্ম এককভাবে দায়ী নয়। মামলাটি বর্তমানে জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের জন্য রাখা হয়েছে, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা প্রভাব ফেলে সেটিই মূল প্রশ্ন।
এমকে/টিএ