আনার হত্যার সঙ্গে জড়িত আ.লীগের সাবেক এমপি কলকাতায়
ছবি: সংগৃহীত
১১:১০ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডটি ২০২৪ সালের মে মাসের আলোচিত ঘটনা। কলকাতার নিউ টাউনের এক বিলাসবহুল ভবনে আনার হত্যার ঘটনায় নতুন করে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যের নাম।
এ মামলার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত শাহীন চাকলাদার বর্তমানে কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় অবস্থান করছেন এবং এক বহুভবনে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। জানা যায়, শাহীন চাকলাদার হাসিনা ঘনিষ্ঠ শিবিরের সাবেক এমপি ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৯ জুন আনার হত্যাকাণ্ডে তার নাম অভিযুক্ত হিসেবে প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই তিনি কার্যত আড়ালে ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি কলকাতায় প্রকাশ্যেই চলাফেরা করছেন, যা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যশোর শহর, সদর উপজেলা ও কেশবপুর এলাকায় সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং জমি দখলের অভিযোগ আগে থেকেই ছিল শাহীনের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর একটি সংবাদপত্রে এক হিন্দু ব্যক্তির জমি দখলের অভিযোগ সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে সেই জমিতে মাদ্রাসা নির্মাণ এবং সেখানে জঙ্গি কার্যকলাপের প্রশিক্ষণের অভিযোগও ওঠে। যদিও এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি নিয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, নিউ টাউনের ওই ভবনে ‘মধুচক্র (অবৈধ যৌন ব্যবসা বা দেহ ব্যবসার আস্তানা)’ সদৃশ অবৈধ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। যশোর, নড়াইল ও ঢাকা থেকে নারীদের এনে এ চক্র পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
আনার হত্যাকাণ্ড দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছিল। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্যকে বিদেশের মাটিতে খুন করার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন তোলে। সেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত বলে চিহ্নিত একজন ব্যক্তি যদি কলকাতায় অবস্থান করে থাকেন, তবে কীভাবে তিনি আইনের নজর এড়িয়ে রয়েছেন এই প্রশ্ন এখন নতুন করে সামনে আসছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে দাবি উঠেছে, অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বিষয়টি তদন্ত করা হোক এবং প্রয়োজন হলে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হোক। যদিও ভারতের সরকারি সংস্থা এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
সব মিলিয়ে, ২০২৪-এর সেই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এই তথ্য প্রকাশ্যে আসায় ফের শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
এসএস/টিএ