© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিএনপি ব্যাংক খাতে চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখবে: গভর্নরকে অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
বিএনপি ব্যাংক খাতে চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখবে: গভর্নরকে অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৪৭ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নতুন সরকার ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত কয়েক মাসে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি তুলে ধরে। গভর্নর বলেন, "আমরা কী কী সংস্কার করছি, তার একটি ব্রিফ অর্থমন্ত্রীকে দিয়েছি। তিনি এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি খুবই ইতিবাচক।"

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, "মূল্যস্ফীতি তো কমাতেই হবে এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।" বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় এবং মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

খেলাপি ঋণ কমানো নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গভর্নর জানান, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার, ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা কঠোর করা, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের চিহ্নিত করা এবং ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ব্যাংকারদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে এবং অনেকেই মনে করছেন, গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

গভর্নর জানান, এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক'-এর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। একীভূত হওয়ার পর ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল রাখা এখন প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আমানত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে; পুরোনো আমানতকারীরা টাকা পাচ্ছেন এবং নতুন আমানতও আসছে।

তিনি আরও জানান, ব্যাংকটির জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছিল, তবে সম্ভাব্য প্রার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তা বিলম্বিত হয়েছে। নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক ও পরিচালনা পর্ষদ সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, একীভূত ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ পাচার, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন এবং তদারকির দুর্বলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা ছিল। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে একাধিক সংস্কার উদ্যোগ নেয়। ব্যাংক একীভূতকরণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি জোরদার, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং তারল্য সহায়তাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে স্বল্প সময়ের কারণে সব উদ্যোগ তখন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এসএস/টিএ 

মন্তব্য করুন