সংকটে থাকা ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনরুদ্ধারে সহায়তা
ছবি: সংগৃহীত
১০:১০ এএম | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংকটে পড়া ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনরুদ্ধারে সহায়তার লক্ষ্যে নীতিগত সহায়তা স্কিমের আওতায় ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিল এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে গত রবিবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আগের নীতিমালার বাস্তবায়নে নমনীয়তা চেয়ে বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এতে সংকটাপন্ন শিল্প খাত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা এই শিথিল নীতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, যোগ্য ঋণগ্রহীতারা এখন কিস্তিতে ডাউন পেমেন্ট পরিশোধের সুযোগ পাবেন। নীতিগত সহায়তা অনুমোদনের সময় নির্ধারিত ডাউন পেমেন্টের ৫০ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া নীতিগত সহায়তা আগে অনুমোদিত হলেও বৈধ কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে, ব্যাংকগুলো পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। সুদসংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা, ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক এবং প্রযোজ্য নির্দেশনার আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গত বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন অফসাইট সুপারভিশন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক। নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকার কারণে খেলাপি হয়ে পড়া করপোরেট ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ কমিটি গঠন করা হয়।
ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ এবং অর্থায়নকারী ব্যাংকের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে কমিটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতিতে খেলাপি হওয়া ঋণগ্রহীতাদের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমন্বিত বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল নীতি জারি করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম নয় মাসে শীর্ষ খেলাপি শিল্পগোষ্ঠীসহ প্রায় ৩০০টি কম্পানি প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুবিধা পেতে আবেদন করে। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নমনীয়তা রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ কঠিন সময়ে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, নির্বাচিত সরকার গঠনের পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও সেবা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে এই সিদ্ধান্ত একটি স্বস্তির সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
এ সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন করা জরুরি।
টিজে/টিকে