মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন রণতরীতে অকেজো টয়লেট, বাড়ছে ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪৩ এএম | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মোতায়েন করেছে বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমানের বড় বহর। তবে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে এখন আলোচনার কেন্দ্র যুদ্ধ প্রস্তুতি নয়, বরং অকেজো টয়লেট ও পয়ঃনিষ্কাশন সংকট। টানা সমুদ্রে থাকার চাপ নাবিকদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড গত বছরের জুন থেকে সাগরে রয়েছে। রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে এর মোতায়েনের মেয়াদ দ্বিতীয়বার বাড়ানো হয়েছে। শান্তিকালে সাধারণত ৬ মাসের জন্য একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ফোর্ডের নাবিকরা ইতিমধ্যে টানা ৮ মাস সাগরে, যা ১১ মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেন, এমন হলে এটি হবে মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে দীর্ঘতম বিরতিহীন মোতায়েনের ঘটনা।
এদিকে এনপিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত রণতরীটির পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় চরম অবনতি ঘটেছে।
ভ্যাকুয়াম সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিলে একটি অংশের টয়লেটে সমস্যা হলে পুরো লাইনের সাকশন নষ্ট হয়ে যায়। লিকেজ মেরামতে নাবিকদের দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। পরিষ্কার করতে গিয়ে টি শার্ট থেকে চার ফুট লম্বা দড়ি পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
টানা সাগরে থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের কাজ পিছিয়েছে। ফলে বিভিন্ন সরঞ্জামে ত্রুটি বাড়ছে।
জাহাজের এক নাবিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ক্রু সদস্যরা ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। মিশন শেষে নৌবাহিনী ছাড়ার কথাও ভাবছেন কেউ কেউ।অধিকাংশ নাবিকের বয়স ২০ এর কোঠায়। ঘোস্ট মোডে থাকায় পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ এক ডজনের বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট জাহাজ আছে। একই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি বিরল ঘটনা।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
এমআর/টিএ