ঋণখেলাপি মামলায় নীরব সোহম, এ বার সালিশির নোটিশ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৫ এএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঋণখেলাপির অভিযোগে নতুন করে চাপে পড়েছেন অভিনেতা ও বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। অভিযোগকারী শাহিদ ইমাম–এর দাবি, আদালতের নোটিস পাওয়ার পরও নীরব থেকেছেন সোহম। তাই বাধ্য হয়ে এ বার সালিশি আইনে পৃথক নোটিস পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, আগের আইনি নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় সালিশি আইনের অধীনে নতুন করে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই আইনে উচ্চ আদালত একজন নিরপেক্ষ সালিশকারক নিয়োগ করতে পারেন, যিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বকেয়া অর্থ আদায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। জানা গেছে, আগামী মার্চের মাঝামাঝি এই মামলা আদালতে উঠতে পারে। অভিযোগকারীর পক্ষের আশা, সহযোগিতা মিললে নির্বাচনের আগেই বিষয়টির নিষ্পত্তি সম্ভব।
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই মামলা রাজনৈতিক মহলেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও এ প্রসঙ্গে সোহমের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফোন ও বার্তার জবাব দেননি তিনি। এর আগে অবশ্য তিনি জানিয়েছিলেন, আইনি নোটিস পেয়েছেন এবং তাঁর আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মুখে পরিকল্পিত ভাবেই তাঁকে হেয় করার চেষ্টা হতে পারে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মানিকজোড়’ ছবির প্রযোজনার জন্য ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন সোহম। অভিযোগকারী শাহিদ ইমাম, যিনি একসময় আরামবাগের যুবনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন, দাবি করেছেন ২০২২ সালে সংশোধনাগারে থাকার কারণে তিনি অর্থ ফেরতের দাবি তুলতে পারেননি। ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তির পর তিনি যোগাযোগ করেন এবং দুই দফায় মোট ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত পান। বাকি ৪৩ লক্ষ টাকা এখনও পরিশোধ হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
বকেয়া অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে ঋণখেলাপির মামলা দায়ের করা হয়। পরদিন চারু মার্কেট থানাতেও লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। সোহমের দাবি, বাকি অর্থ শোধ করার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে। কিন্তু কয়েকটি ছবি মুক্তি না পাওয়ায় আর্থিক টানাপোড়েন চলছে। বাংলা ছবির বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এখন নজর মার্চের মাঝামাঝি আদালতের শুনানির দিকে। সোহম সহযোগিতা করেন কি না, তার উপরই নির্ভর করছে মামলার পরবর্তী গতি।
এমকে/এসএন