কিউবার জলসীমায় মার্কিন স্পিডবোটে হামলা, নিহত ৪
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫১ এএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কিউবার জলসীমায় প্রবেশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত একটি স্পিডবোটে গুলি ছুড়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষীরা। এতে ৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নৌযানটির আরোহীরা আগে গুলি চালালে সীমান্তরক্ষীরা পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকালে ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত ওই স্পিডবোটটি কিউবার মধ্যাঞ্চলের ভিলা ক্লারা প্রদেশের কায়ো ফালকোনেস এলাকার কাছে শনাক্ত করা হয়। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাঁচ সদস্য নিয়ে একটি কিউবান নৌযান স্পিডবোটটির কাছে গেলে মার্কিন নৌযানটির ক্রু সদস্যরা গুলি চালায়। এতে কিউবান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন কমান্ডার আহত হন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ঘটনায় মার্কিন নৌযানটির চারজন আরোহী নিহত এবং ছয়জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কিউবা সরকার জানিয়েছে, নৌযানটিতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তারা কী উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় ছিলেন; তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, নৌযানটিতে থাকা ব্যক্তিদের জাতীয়তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা এখনো তথ্য সংগ্রহ করছি। তিনি নিশ্চিত করেন, নৌযানটিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো কর্মী ছিলেন না।
ক্যারিবীয় দেশ সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস সফরকালে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, খোলা সমুদ্রে এ ধরনের গোলাগুলি অস্বাভাবিক। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তদন্ত করে দেখবে ঠিক কী ঘটেছে এবং কারা এতে জড়িত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড ঘটনার আশপাশের এলাকায় গেছে।
রুবিও আরও বলেন, নৌযানটি বর্তমানে কার হেফাজতে আছে তা জানার চেষ্টা চলছে। যদি এতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা থাকেন, তাহলে তাদের কাছে পৌঁছাতে চায় ওয়াশিংটন। তবে এ ঘটনায় কেবল কিউবান সরকারের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করা হবে না বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। কিউবা বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকটে রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার কারণে আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেএন/এসএন