© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ট্রাম্পের হামলার হুমকির মধ্যেই আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

শেয়ার করুন:
ট্রাম্পের হামলার হুমকির মধ্যেই আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪১ এএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সামরিক চাপের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় বৈঠকে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। বৈঠকের আগে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেকায়দায় ফেলতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সামরিক শক্তি জড়ো করেছে মার্কিন বাহিনী। ইরানও এই আক্রমণের জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আলোচনাকে সংঘাত রোধের শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে চুক্তির সম্ভাবনা এখনো অস্পষ্ট।

ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন। তবে ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেয়ার জন্য দেশটির ওপর সীমিত পরিসরে হামলার কথাও বিবেচনা করছেন।

আলোচনায় ট্রাম্প কী দাবি করছেন এবং ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আমেরিকা বোমা হামলা চালানোর আট মাস পর এখন কেন সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি ব্যাখ্যা করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ইরান বরাবরই নিজেদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

এই মাসের শুরুতে ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আগের দুই দফা আলোচনার মতো, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

এদিকে ইরানকে পরমাণু ইস্যুতে চুক্তি করাতে চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওয়াশিংটন। এবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের ১২টি তেলবাহী জাহাজ এবং বেশ কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে, যারা তেহরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে অর্থায়ন করছে বলে অভিযোগ মার্কিন প্রশাসনের।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই সর্বোচ্চ চাপ ক্যাম্পেইন ইরানকে পরমাণু অস্ত্র ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন থেকে বিরত রাখতেই পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো ধরনের প্রতারণা বা মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আক্রমণ চালানো হলে ইরান তার কঠোর জবাব দেবে।

তিনি বলেন, তেহরান সম্মানজনক কূটনীতির পথে হাঁটতে রাজি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনার টেবিলে বসে আঘাত করতে চায়, তবে তাদেরকে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘শক্তিশালী জবাবের মুখে পড়তে হবে’।

এত উত্তেজনার মাঝেও সমঝোতার আশা ছাড়েননি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনির নির্দেশনায় তারা বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান এবং জেনেভা আলোচনায় একটি অনুকূল ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ-র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তিনি বলেন, ইরানের কাছে এখন পরমাণু অস্ত্র না থাকলেও মজুত থাকা উপাদানগুলো যেকোনো সময় অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে। এই অনিশ্চয়তা যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন