© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সেন্সর বোর্ড সভায় বক্তারা / চলচ্চিত্র, নাটক এবং ওটিটি কনটেন্টে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়

শেয়ার করুন:
চলচ্চিত্র, নাটক এবং ওটিটি কনটেন্টে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৩০ পিএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
চলচ্চিত্র, নাটক এবং ওটিটি কনটেন্টে জনপ্রিয় শিল্পীদের দ্বারা আইনবিরোধী ধূমপানের দৃশ্য প্রচার শিশু, কিশোর-তরুণদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ও ওটিটি কন্টেন্ট সেন্সরশিপের আওতায় আনা এবং প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা গাইডলাইন প্রণয়ন জরুরি। ধূমপানসহ নেতিবাচক দৃশ্যসংবলিত চলচ্চিত্র জাতীয় পুরস্কার প্রদানের জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আজ বৃহস্পতিবার তথ্য ভবনে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড আয়োজিত ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য নিয়ন্ত্রণে আইনের বাস্তবায়ন : সংশ্লিষ্টদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এ অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।

মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুাক্তযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী’র সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান, চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক রফিকুল আনোয়ার রাসেল, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সদস্য ও অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, চলচ্চিত্র পরিচালক তাসমিয়া আফরিন মৌ, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন রোর্ডের উপপরিচালক মো. মঈনউদ্দিন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. ফরহাদুর রেজা, বঙ্গ ওটিটির হেড অব কন্টেন্ট হায়দার আলী প্রমুখ।


মানসের সিনিয়র প্রজেক্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হানের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য অল্পবয়সীদের প্রভাবিত করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দর্শক জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘তাণ্ডব’ চলচ্চিত্রে ১০২ বার ধূমপানের দৃশ্য প্রচার হয়েছে।

‘আলী’ সিনেমায় ৫৫ এবং ‘বরবাদ’ এ ১২১ বার ধূমপানের দৃশ্য ফোকাস করে দেখানো হয়েছে। বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য প্রচারের সুযোগ নেই। চলচ্চিত্রের সেন্সর সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের এ আইন সচেতনভাবে প্রতিপালনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সকলের প্রচেষ্টায় পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপান অনেকাংশে কমেছে বলে মন্তব্য করেন এস. এম আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র, ওটিটি কন্টেন্টগুলোতে ধূমপান ও মাদকদ্রব্য প্রদর্শন যুক্তিযুক্ত নয়। এসব দৃশ্য দেখে শিশুরা প্রভাবিত হয়। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো সচেতন হতে হবে। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের তরফ থেকে সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেননা, চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য বোর্ড নিরলসভাবে কাজ করছে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, তামাক কম্পানিগুলো তাদের প্রচারের কৌশল পরিবতন করছে। একইভাবে ধূমপানের পরিবর্তে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে ই-সিগারেট।

এর বড় কারণ বিনোদন মাধ্যমে প্রধান চরিত্রগুলো দ্বারা সিগারেট ও ই-সিগারেটের প্রচারণা। চলচ্চিত্র শক্তিশালী বিনোদন মাধ্যম এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বিনোদন সহজলভ্য করেছে।
তাই ওটিটি কন্টেন্ট সেন্সরশিপের আওতায় আনতে হবে। ধূমপান দিয়ে মাদকাসক্তির শুরু হয়, এটা প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। সার্টিফিকেশন বোর্ডসহ সবাই তামাকের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কাজ করলে সচেতনতা ছড়িয়ে যাবে এবং ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন