© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রোজা রেখে যেসব কাজ করা সুন্নত

শেয়ার করুন:
রোজা রেখে যেসব কাজ করা সুন্নত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:১৬ এএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অফুরন্ত রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসের প্রতিটি দিন ও রাত ফজিলতপূর্ণ। রোজার অন্যতম মর্যাদা হলো, আল্লাহ তাআলা নিজেই এর প্রতিদান দেবেন। রোজা এমন এক ইবাদত, যা বান্দা ও তার রবের মধ্যকার একান্ত সম্পর্ককে দৃঢ় করে।

হাদিসে এসেছে, রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে অসংখ্য মানুষকে মুক্তি দেন এবং জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য দান করেন। প্রতিদিন ইফতারের সময়ও কিছু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। (মুসানদে আহমাদ, হাদিস: ২১৬৯৮)

রমজানের ফরজ ইবাদত রোজার পূর্ণতার জন্য কিছু সুন্নত আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব আমল রোজাকে পরিপূর্ণতা দেয় এবং সওয়াব বৃদ্ধি করে।

রোজা রেখে উত্তম আচরণ করা অত্যন্ত জরুরি। রোজাদারের উচিত অন্যের সঙ্গে সদাচরণ করা এবং মন্দ কথা, গালি বা ঝগড়া থেকে বিরত থাকা। যদি কেউ ঝগড়া করতে আসে বা গালি দেয়, তবে রোজাদার বলবেন, ‘আমি রোজাদার।’ হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং মূর্খের মতো আচরণ না করে। কেউ যদি তার সঙ্গে ঝগড়া করে বা গালি দেয়, সে যেন বলে—আমি রোজাদার, আমি রোজাদার।’ (বুখারি, মুসলিম)

রোজাদারের জন্য সেহরি খাওয়া সুন্নত। হজরত আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও; কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস: ১৯২৩; মুসলিম, হাদিস: ১০৯৫)

সেহরি বিলম্বে খাওয়াও সুন্নত। হজরত যায়েদ বিন সাবেত (রা.) বর্ণনা করেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সেহরি খেয়েছিলাম। এরপর তিনি নামাজে দাঁড়ান। আযান ও সেহরির মাঝে সময় ছিল প্রায় পঞ্চাশ আয়াত তেলাওয়াতের সমান। (বুখারি, হাদিস: ৯২১)

সময় হলে দ্রুত ইফতার করাও সুন্নত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ ততদিন কল্যাণে থাকবে, যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে।’ (বুখারি, হাদিস: ১৯৫৭; মুসলিম, হাদিস: ১০৯৮)

ইফতারে কাঁচা খেজুর দিয়ে শুরু করা উত্তম। কাঁচা খেজুর না পেলে শুকনো খেজুর, তাও না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তা না থাকলে শুকনো খেজুর, আর সেটিও না থাকলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৬; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৬৯৬)

ইফতারের সময় দোয়া করা সুন্নত। ইফতার শুরুর আগে এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে-

بسم الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করেছি। (আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৮)

রোজাদারের জন্য তারাবির নামাজ আদায় করা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম করবে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ১৮৭৯)

রমজানে দান-সদকা করা বিশেষভাবে ফজিলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি দান করতেন। রোজা কেবল না খেয়ে থাকা নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবতার চর্চার এক মহাসুযোগ। তাই ফরজ রোজার পাশাপাশি সুন্নত আমলগুলোর প্রতি যত্নবান হলে রমজানের প্রকৃত বরকত ও ফজিলত অর্জন সম্ভব।

আইকে/টিকে

মন্তব্য করুন