© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইন্টারনেটে তথ্যের জট, সব কিছু জানাই কি প্রয়োজন?

শেয়ার করুন:
ইন্টারনেটে তথ্যের জট, সব কিছু জানাই কি প্রয়োজন?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪৮ এএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইন্টারনেটের দুনিয়ায় তথ্যের কোনো অভাব নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, এই তথ্যের সাগরে ভালো জিনিসের পাশাপাশি আবর্জনাও প্রচুর। বর্তমানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আমাদের মনোযোগ সারাক্ষণ স্ক্রিনে আটকে থাকে। এই সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞরা এখন ‘সমালোচনামূলক উপেক্ষা’ বা সচেতনভাবে কিছু জিনিস এড়িয়ে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন।

কেন শুধু ‘সমালোচনামূলক চিন্তা’ যথেষ্ট নয়?
আমরা ছোটবেলা থেকে শিখেছি কোনো তথ্য পেলে সেটা গভীরভাবে পড়তে এবং বিচার-বুদ্ধি দিয়ে যাচাই করতে। কিন্তু ইন্টারনেটে তথ্যের পরিমাণ এত বেশি যে, আপনি যদি প্রতিটি খবর বা লিংক যাচাই করতে যান, তবে আপনার দিন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু তথ্য শেষ হবে না। এ ছাড়া খারাপ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে মনোযোগ দেওয়া মানেই হলো সেই অসাধুচক্রের ফাঁদে পা দেওয়া, যারা আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চায়।

সমাধানের ৩টি কৌশল: কী এড়িয়ে চলবেন এবং কিভাবে?
বিশেষজ্ঞরা তিনটি কার্যকরী উপায়ের কথা বলেছেন:

ডিজিটাল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ
আপনার ফোন বা কম্পিউটারের সেটিংস এমনভাবে সাজান যেন তা আপনার কাজে বাধা না দেয়।
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, মেসেজ দেখার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা এবং বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার সীমিত করা—এগুলো আপনাকে ইন্টারনেটের নেশা থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে।

ল্যাটেরাল রিডিং বা ‘পাশাপাশি পড়া’
কোনো ওয়েবসাইট বা লিংকে ঢুকে সরাসরি সেটা পড়তে শুরু করবেন না। আগে নতুন একটি ট্যাবে গিয়ে সার্চ করে দেখুন ওই ওয়েবসাইট বা তথ্যের উৎস কতটা নির্ভরযোগ্য। পেশাদার ফ্যাক্ট-চেকাররা এভাবেই কাজ করেন।

সাইটটি দেখতে খুব সুন্দর বা বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও তাতে বিশ্বাস না করে আগে জানুন অন্যরা সেই সাইট সম্পর্কে কী বলছে।

ট্রোল বা গুজব ছড়ানোদের পাত্তা না দেওয়া
অনলাইনে অনেকেই ইচ্ছা করে বিতর্কিত বা আজেবাজে কথা বলে আপনার মনোযোগ কাড়তে চায়। এদেরকে উত্তর দেওয়া বা এদের সাথে তর্কে জড়ানো মানেই হলো তাদের উদ্দেশ্য সফল করা। এদের সরাসরি এড়িয়ে চলা, ব্লক করা বা রিপোর্ট করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

দার্শনিক উইলিয়াম জেমস বলেছিলেন, ‘জ্ঞানী হওয়ার শিল্প হলো কী কী উপেক্ষা করতে হবে তা জানার শিল্প।

আজকের দিনে আপনি ইন্টারনেটে কতটা জানলেন তার চেয়ে বেশি জরুরি হলো, আপনি কোন কোন অপ্রয়োজনীয় জিনিস এড়িয়ে নিজের মানসিক শান্তি ও সময় বাঁচালেন। স্কুল-কলেজে এখন থেকেই এই ‘উপেক্ষা করার দক্ষতা’ শেখানো উচিত, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম তথ্যের সমুদ্রে ডুবে না যায়।

সূত্র : দ্য কনভারসেশন  

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন