সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৫:২৭ পিএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চালকদের পেশাদারি ও প্রশিক্ষণের অভাবকে চিহ্নিত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘চালক, পথচারী ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় যারা নিয়োজিত, তিনজনই দায়িত্বশীল। কিন্তু চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পেশাদারি পরীক্ষা ঠিকমতো হয় না এবং পরবর্তী প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।’
শুক্রবার সকালে বরিশাল মহানগরীর সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ আয়োজিত বরিশাল ও পিরোজপুরের সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, বরিশাল বিআরটিএ পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান, যুগ্ম সচিব রুবাইয়াৎ-ই-আশিক, সড়ক শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফা কামাল ও জেলা বাস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিরাজ শিকদার ডালিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্য তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি কঠিন কোনো কাজ নয়। নীতিনির্ধারক যদি আন্তরিকভাবে দায়িত্ব বোঝেন এবং যথাযথভাবে কাজ করেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার ব্যবস্থা করা সম্ভব।
সরকারের উচিত চালকদের প্রশিক্ষণ ও সড়ক সচেতনতার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রকে আরো মানবিক করে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের জীবন সংক্ষিপ্ত, তাই সমাজ ও রাষ্ট্রকে মানবিকভাবে পরিচালনা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। সড়ক দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানি নয়, তা একসঙ্গে পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয়।রাষ্ট্র ও সমাজকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’
দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মন্ত্রী বার্তা দিয়ে বলেন, ‘চালক, পথচারী এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় যারা নিয়োজিত, প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে। ট্রাফিক আইন মানা, গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, এবং যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নীতিনির্ধারকদের মূল দায়িত্ব। ঢাকা-বরিশাল হাইওয়ে এখনো পুরোপুরি পরিকল্পিত বা সরল নয়। কার্যকর রোড ম্যানেজমেন্ট, স্পিড কন্ট্রোল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়িয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘স্বেচ্ছাচারিতা, চাঁদাবাজি বা অনির্দিষ্ট ধর্মঘট জনজীবন বিপর্যস্ত করে। এ ধরনের অরাজকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আইন অমান্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
অনুষ্ঠানে পিরোজপুরের ৭ জন ও বরিশালের ৫৪ জনসহ মোট ৬১ জনকে ২ কোটি ১৭ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
এসকে/টিকে