নিজ নাগরিকদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫২ পিএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইসরাইল থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছে, বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থায় ইসরাইল ছাড়ার কথা বিবেচনা করতে। একই সঙ্গে নতুন করে ইসরাইল ভ্রমণ না করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ফলাফল ছাড়া শেষ হওয়ার পর এই নির্দেশনা এলো। গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনার পর দুই পক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক হতে পারে।
এর আগে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দূতাবাস কর্মীদের ইমেইল করে দ্রুত ইসরাইল ছাড়ার আহ্বান জানান। তিনি এক বার্তায় বলেন, যে যেখানে সম্ভব টিকিট কেটে যত দ্রুত সম্ভব ইসরাইল থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।
এদিকে জেনেভায় তৃতীয় দফার বৈঠকের পর ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি (যিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী) ওয়াশিংটনে গেছেন। তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে দেখা করে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলোচনায় বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নিক। কিন্তু তেহরান বলছে, তারা নিজেদের দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার ছাড়বে না।
আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কার্যালয়ে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে পরবর্তী অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল, আর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল না হলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারই অংশ হিসেবে দেশটির বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইলের উপকূলে এসে পৌঁছেছে।
এমআর/টিকে