© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

১৭০ বছর পর আবার বন্ধ হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

শেয়ার করুন:
১৭০ বছর পর আবার বন্ধ হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:২৯ এএম | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
একসময় বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী করপোরেট শক্তি ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। প্রায় দেড় শতাব্দী আগে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এই কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এবার একই নাম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা আধুনিক বিলাসপণ্যের ব্র্যান্ডটিও দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, লন্ডনভিত্তিক বিলাসপণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড ২০২৫ সালের অক্টোবরে লিকুইডেশনে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট দেনা প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার ইউরোর বেশি। এর মধ্যে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত মূল কোম্পানির কাছে ৬ লাখ ইউরোর বেশি, বকেয়া কর প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ইউরো এবং কর্মীদের পাওনা প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ইউরো।

লন্ডনের মেফেয়ারের ৯৭ নিউ বন্ড স্ট্রিটে অবস্থিত তাদের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর বর্তমানে বন্ধ এবং ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত। কোম্পানির ওয়েবসাইটও অচল হয়ে পড়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে ব্রিটিশ সরকারের হাতে ন্যস্ত হয়। ১৮৫৮ সালে শুরু হয় সরাসরি ব্রিটিশ রাজ। উপমহাদেশে শোষণ, লুটপাট ও দুর্ভিক্ষের মতো ঘটনার কারণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইতিহাসে এক বিতর্কিত ও কুখ্যাত নাম হিসেবে পরিচিত। বাংলার দুর্ভিক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও সেই সময়ের সঙ্গে যুক্ত।

২০১০ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় উদ্যোক্তা সাঞ্জিভ মেহতা কোম্পানিটির নামের স্বত্ব কিনে নেন এবং লন্ডনে বিলাসপণ্যের খুচরা ব্র্যান্ড হিসেবে এটি পুনরুজ্জীবিত করেন। মেফেয়ারে প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের একটি দোকানে উচ্চমানের চা, চকলেট, মিষ্টান্ন, মসলা ও অন্যান্য প্রিমিয়াম পণ্য বিক্রি শুরু হয়। সে সময় অনেকেই এটিকে ইতিহাসের এক প্রতীকী পালাবদল হিসেবে দেখেছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের জারি করা সনদের মাধ্যমে ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এটি একটি জয়েন্ট-স্টক ট্রেডিং কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে, যা পরবর্তীতে বিশ্ব বাণিজ্য ও উপনিবেশ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে ইতিহাসের মতো আধুনিক সংস্করণও শেষ পর্যন্ত ব্যবসায় টিকে থাকতে পারল না।

সূত্র: এনডিটিভি


ইউটি/টিএ 

মন্তব্য করুন