‘কখনও কখনও শক্তি ব্যবহার করতে হয়’, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৯ এএম | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরান ইস্যুতে আলোচনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তিনি বলেছেন, জেনেভায় তৃতীয় দফা আলোচনা শেষে ইরানের পরমাণু আলোচনায় তাদের আচরণে তিনি ‘সন্তুষ্ট নন’।
জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা বললেও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। তেহরান প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে রাজি নয়। সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে না চাইলেও কখনো কখনো তা করতে হয়।
ট্রাম্প বলেন, আমরা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তারা যেভাবে আলোচনা করছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে—এর কাছাকাছি কেউ নেই। আমি চাই না সেটি ব্যবহার করতে। কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে তা ব্যবহার করতেই হয়।
উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে দূতাবাস থেকে নিজেদের কর্মী প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাজ্য। ইসরাইল সফরে জারি করা হয়েছে কড়াকড়ি সতর্কতা। চীন, ভারত, কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। সতর্কতা জোরদার করেছে জার্মানি ও ফ্রান্স। এমনকি ইসরাইল থেকে জরুরি নয় নিজেদের এমন সরকারি কর্মীদের দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার ইসরাইল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। ইরানসহ আঞ্চলিক বিষয় আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলছেন, কূটনৈতিক সমাধানই অগ্রাধিকার পাবে। তবে পরিস্থিতি নির্ভর করবে ইরানের পদক্ষেপের ওপর।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। মোতায়েন করা হয়েছে বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড রয়েছে ইসরাইলের উপকূলে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্তিতিতে সমঝোতা না হলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
এসকে/টিএ