কিভাবে কাজ করে ব্লুটুথ প্রযুক্তি?
ছবি: সংগৃহীত
১১:১৫ এএম | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আজকের দিনে আমাদের চারপাশের প্রযুক্তি জীবনের অংশ হয়ে গেছে। স্মার্টফোন থেকে স্মার্টওয়াচ, হেডফোন থেকে গাড়ির অডিও সিস্টেম- সবই এখন ব্লুটুথের মাধ্যমে সহজে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। কোনো জটিল তার ছাড়াই এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব, যা আমাদের দৈনন্দিন কাজকে করেছে আরও দ্রুত এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ।
ব্লুটুথ আসলে কী?
ব্লুটুথ হলো একটি স্বল্প-পাল্লার ওয়্যারলেস বা তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তি। এটি ২.৪ গিগাহার্টজ রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে কাজ করে।
ওয়াইফাইয়ের মতো এর জন্য কোনো রাউটারের প্রয়োজন হয় না; ডিভাইসগুলো সরাসরি একে অপরের সাথে কথা বলতে পারে।
বর্তমানে মূলত দুই ধরনের ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়:
১. ব্লুটুথ ক্লাসিক: এটি দ্রুত ডেটা পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হয় (যেমন: ব্লুটুথ স্পিকার বা হেডফোনে গান শোনা)।
২. ব্লুটুথ লো এনার্জি: এটি খুব কম ব্যাটারি খরচ করে। স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকারের মতো ডিভাইসে এটি বেশি জনপ্রিয়।
এটি কিভাবে কাজ করে?
পেয়ারিং: দুটি ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের প্রথম ধাপ হলো পেয়ারিং। এর মাধ্যমে ডিভাইস দুটি একে অপরের ওপর আস্থা তৈরি করে এবং একটি নিরাপদ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।
পিকোনেট: যখন কয়েকটি ডিভাইস একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের (যেমন স্মার্টফোন) সাথে যুক্ত হয়, তখন তারা একটি ব্যক্তিগত ছোট নেটওয়ার্ক বা পিকোনেট তৈরি করে।
ফ্রিকোয়েন্সি হপিং: অনেকগুলো তারবিহীন ডিভাইস একসাথে থাকলে সিগন্যালে সমস্যা হতে পারে।
ব্লুটুথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত রেডিও চ্যানেল পরিবর্তন করে এই বাধা এড়িয়ে চলে।

নিরাপত্তা ও রেঞ্জ
নিরাপত্তা: ব্লুটুথে ডেটা এনক্রিপ্ট বা গোপন কোডে পাঠানো হয়, যাতে অন্য কেউ তা পড়তে না পারে। অনেক ক্ষেত্রে সংযোগ করার জন্য সিকিউরিটি কোড বা পিন নম্বর প্রয়োজন হয়।
দূরত্ব: সাধারণত ব্লুটুথ ১০ থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে কাজ করলেও, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন ১ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে সংযোগ রক্ষা করা সম্ভব।
কেন এর নাম ব্লুটুথ?
৯০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ডেনমার্কের রাজা ছিলেন হ্যারাল্ড ব্লুটুথ।
তিনি বিচ্ছিন্ন কিছু রাজ্যকে একত্রিত করেছিলেন। ঠিক তেমনি, বিভিন্ন ডিভাইসকে এক সুতোয় বাঁধার প্রতীক হিসেবে এই প্রযুক্তির নাম রাখা হয়েছে তার নামানুসারে।
সূত্র : হাউ স্টাফ ওয়ার্ক্স
এসকে/টিএ