খামেনির মৃত্যুর পর আলোচনায় খোমেনির নাতি—কে এই হাসান
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০৯ পিএম | ০২ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন—এই প্রশ্নটি এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা চললেও স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না।
সোমবার (২ মার্চ) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৩ বছর বয়সী হাসান খোমেনি প্রয়াত রুহুল্লাহ খোমেনির ১৫ নাতি-নাতনির মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মুখ। ইরানের ধর্মীয় অভিজাত মহলে তাঁকে তুলনামূলক মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানির মতো সংস্কারপন্থী নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই দুই নেতা ক্ষমতায় থাকাকালে পশ্চিমাদের সঙ্গে সংলাপ ও সম্পৃক্ততার নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
হাসান খোমেনি দক্ষিণ তেহরানে তাঁর দাদার সমাধিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি কখনো সরকারি পদে আসীন না হলেও অনেকের চোখে তিনি কট্টরপন্থীদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী—বিশেষ করে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির বিপরীতে।
২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সংস্কারপন্থী প্রার্থীদের অংশ নিতে বাধা দেওয়ায় ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সমালোচনা করেছিলেন হাসান। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা কাউকে বেছে দিয়ে আমাকে বলতে পারেন না যে তাকেই ভোট দিতে হবে।’ সেবার কট্টরপন্থী ইব্রাহিম রাইসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে তিনি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন।
২০২২ সালে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, সেই ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করেছিলেন হাসান। তবে একই সঙ্গে খামেনিবিরোধী স্লোগান দেওয়া বিক্ষোভকারীদেরও সমালোচনা করেছিলেন, যা ইরানের শাসন-কাঠামোর প্রতি তাঁর আনুগত্যের ইঙ্গিত বহন করে।
রাজনৈতিকভাবে সংস্কারপন্থী ভাবধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও হাসান খোমেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোর ভেতরেই পরিবর্তন চান। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি রুহানি সরকারকে সমর্থন করেছিলেন। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
জানা যায়, এক দশক আগে বিশেষজ্ঞ পরিষদে (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) প্রার্থী হতে চাইলেও গার্ডিয়ান কাউন্সিল হাসানকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় যোগ্যতার ঘাটতির কথা বলা হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল সংস্কারপন্থী চ্যালেঞ্জ ঠেকানোর একটি পদক্ষেপ।
হাসান খোমেনি আরবি ও ইংরেজিতে সাবলীল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং পাশ্চাত্য দর্শনেও আগ্রহী বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আয়াতুল্লাহ পরিবারের কন্যা সাইয়েদা ফাতিমাকে বিয়ে করেছেন। এই দম্পতির চার সন্তান রয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে যে ধর্মীয়-রাজনৈতিক পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, সেখানে হাসান খোমেনির নাম এখন গুরুত্বপূর্ণভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
এসএন