সেই মুশতাকের বাগানবাড়িতে আইডিয়াল কলেজ ছাত্রীদের শিক্ষাসফর!
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৫ পিএম | ০৩ মার্চ, ২০২৬
রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল কলেজের ছাত্রী সিনথিয়া ইসলাম তিশাকে বিয়ে করে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ। নানান নাটকীয়তার পর মুশতাক-তিশা দম্পতি সংসার করছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটির।
এবার খন্দকার মুশতাককে ঘিরে মতিঝিল আইডিয়াল কলেজে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তার নিজ বাড়িতে ‘শিক্ষাসফর’ করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৩ সালে মতিঝিল আইডিয়ালের কলেজ শাখার উদ্যোগে ওই শিক্ষাসফর করা হয়।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জমা পড়লে তা তদন্তে কমিটি গঠন করে দেয় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান গভর্নিং বডি। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তাতে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সাইফুল ইসলাম নামে একজন অভিভাবক অধ্যক্ষ বরাবর একটি অভিযোগ করেন। তাতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ মতিঝিল আইডিয়ালের কলেজ শাখার ছাত্রীদের শিক্ষাসফরে নেওয়া হয়। শিক্ষাসফরে স্পট নির্ধারণ করা হয় নরসিংদীতে অবস্থিত খন্দকার মুশতাক আহমেদের বাগানবাড়ি ‘আনন্দ ভবনে’। ওই শিক্ষাসফরে অংশ নেন ছাত্রী সিনথিয়া ইসলাম তিশাও (যাকে মুশতাক বিয়ে করেছেন)।
মুশতাকের আনন্দ ভবনে শিক্ষাসফর বা পিকনিক আয়োজন বিষয়ে অভিভাবকদের অনেকে মৌখিক ও লিখিতভাবে আপত্তি জানালেও তৎকালীন অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীর যোগসাজশে তা চাপা পড়ে যায়।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আইডিয়াল কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয়। কমিটির সদস্যরা হলেন—মুগদা শাখার বাংলা মাধ্যমের প্রভাতির সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ এমাম হোসাইন, মতিঝিল প্রভাতি শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন এবং বনশ্রী ইংরেজি মাধ্যমের দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক মল্লিক আমিরুল ইসলাম। তারা তদন্ত শেষে ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে জানিয়ে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে কলেজ শাখার শিক্ষাসফরের সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন ইংরেজি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক রুমানা শাহীন শেফা। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি শিক্ষাসফর আয়োজন করার জন্য নিয়ম মোতাবেক স্পট দেখতে অধ্যক্ষসহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন। একপর্যায়ে তৎকালীন গভর্নিং বডির সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ তার নিজ বাড়ি আনন্দ ভবনে একটি কটেজ থাকার কথা উল্লেখ করেন এবং তা সরেজমিনে দেখার জন্য সম্পাদক রুমানা শাহীন শেফাকে নির্দেশ দেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে সম্পাদকসহ কলেজ শাখার শিক্ষক ফারজানা বারী, নিগার সুলতানাসহ ৪-৫ জন স্পট দেখার জন্য আনন্দ ভবনে যান। আনন্দ ভবনে কোনো স্পট ভাড়া লাগবে না বিধায় তৎকালীন অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদী গভর্নিং বডির সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদের বাসভবনে শিক্ষাসফরের অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ওই শিক্ষাসফরের যাবতীয় আয় (শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা) ও ব্যয় গভর্নিং বডির সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আয়-ব্যয়ের কাজ ও ব্যবস্থাপনা নিজেই সম্পন্ন করেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে ওই শিক্ষাসফরের সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক রুমানা শাহীন শেফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির নির্দেশনায় আমি কাজ করেছিলাম। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।’
তৎকালীন অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদী এবং গভর্নিং বডির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে বর্তমান অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) লায়লা আক্তার দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আমরা তদন্ত কমিটি করেছিলাম। কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। বিষয়টি গভর্নিং বডিতে তোলা হবে। সেখানে যে সিদ্ধান্ত হবে, সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’
ইউটি/টিএ