জেনে নিন এক মিনিটেই প্যানিক অ্যাটাক থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়
ছবি: সংগৃহীত
০৩:২৬ পিএম | ০৪ মার্চ, ২০২৬
হঠাৎ করেই বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা মনে হতে পারে যেন বড় কোনো বিপদ ঘটে যাচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিই প্যানিক অ্যাটাক। এটি অসহনীয় মনে হলেও বাস্তবে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে না। বরং শরীরের অতিরিক্ত মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়াই এমন তীব্র উপসর্গ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক কৌশল জানা থাকলে মাত্র এক মিনিটেই এর তীব্রতা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্যানিক অ্যাটাক হলো তীব্র ভয় বা অস্বস্তির এমন একটি মুহূর্ত, যা কয়েক মিনিটের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছে যায়। এ সময় দ্রুত হৃদস্পন্দন, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুক শক্ত হয়ে আসা, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি ও অতিরিক্ত ঘাম দেখা দিতে পারে। অনেকেই মনে করেন হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে, ফলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
চিকিৎসকরা জানান, মস্তিষ্ক যখন কোনো হুমকির আভাস পায় তা বাস্তব হোক বা কল্পিত তখনই শরীরে চাপজনিত হরমোন নিঃসৃত হয়। এর ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, শ্বাস দ্রুত ও অগভীর হয়ে ওঠে, পেশিতে টান ধরে এবং মাথা ঝিমঝিম করতে পারে। দ্রুত শ্বাস নেওয়ার কারণে রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমে গিয়ে বুকে অস্বস্তি বা অসাড়তা আরও বাড়তে পারে। এই চক্র ভাঙাই হলো তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র ৬০ সেকেন্ডের সচেতন প্রয়াসেই পরিস্থিতি অনেকটা সামাল দেওয়া যায়।
প্রথমেই নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস। নাক দিয়ে চার সেকেন্ড ধরে ধীরে শ্বাস নিতে হবে, এরপর দুই সেকেন্ড বিরতি দিয়ে মুখ দিয়ে ছয় সেকেন্ডে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। এভাবে তিন থেকে চারবার করলে স্নায়ুতন্ত্রে শিথিলতার সংকেত পৌঁছে যায় এবং হৃদস্পন্দন ধীরে আসতে শুরু করে।
এরপর মনোযোগ সরিয়ে নিতে হবে আশপাশের বাস্তবতায়। চোখে দেখা যায় এমন পাঁচটি জিনিস এবং স্পর্শ করা যায় এমন চারটি জিনিস চিহ্নিত করার চেষ্টা করুন। এতে মন বর্তমান মুহূর্তে ফিরে আসে এবং ভয়ের তীব্রতা কমে।
সবশেষে নিজেকে আশ্বস্ত করা জরুরি। মনে মনে বলুন—এই অনুভূতি সাময়িক, আমি নিরাপদ, এটি কেটে যাবে। এমন আত্মকথন মস্তিষ্ককে নিরাপত্তার বার্তা দেয় এবং আতঙ্কের বিস্তার থামাতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, প্যানিক অ্যাটাক কষ্টদায়ক হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাস গড়ে তুললে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হয়। সমস্যা বারবার দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এমকে/টিএ