মতামত জরিপ / পুরোনো পোশাকেই ফিরতে চান ৯৬% পুলিশ সদস্য
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪০ পিএম | ০৪ মার্চ, ২০২৬
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পুলিশের ভূমিকার কারণে বৃহৎ এই বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। পুলিশ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে গত বছরের নভেম্বরে চালু হয় পুলিশের নতুন পোশাক। কিন্তু আয়রন কালারের শার্ট আর কফি কালারের প্যান্ট পরতে চাচ্ছেন না অধিকাংশ পুলিশ সদস্য। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পরিচালিত জরিপে ৯৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ পুলিশ সদস্য পুরোনো পোশাকে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন। গত সোমবার পুলিশের সব ইউনিট থেকে এ মতামত নেওয়া হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এ জরিপে অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪১ জন পুলিশ সদস্য। তাদের মধ্যে মাত্র ৯১১ জন পরিবর্তিত পোশাকে থাকতে চান, যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ৮৪ ভাগ। আর বর্তমান এবং পূর্বের পোশাক বাদ দিয়ে নতুন পোশাক চেয়েছেন ২ হাজার ৮১৭ জন (২.৫৯ শতাংশ)। বাকি ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন (৯৬.৫৭ শতাংশ) পুরোনো পোশাকে থাকতে চান।
ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, অনেক জায়গায় এসেছে, মানের কারণে পোশাক পরিবর্তনের মতামত দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। এটা ঠিক নয়। মূলত ভিজিবিলিটির কারণে নতুন পোশাকটা পুলিশ সদস্যরা পছন্দ করছেন না।
তিনি বলেন, পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন পোশাক নিয়ে অসন্তোষের কথা জানায় পুলিশের দুই সংগঠন। সাধারণ পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকেও পোশাক নিয়ে সমালোচনা প্রকাশ্যে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক পোশাক বিষয়ে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে জনমত যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। সেভাবেই পুলিশের সব ইউনিট থেকে জনমত নেওয়া হয়েছে। এখন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ মতামত উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।
পুলিশের পোশাক পরিবর্তন-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পোশাকের বিরুদ্ধে অধিকাংশের মতামত যাওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পোশাক পরিবর্তনের আদেশটি বাতিল হতে পারে।পুরোনো পোশাকেই ফেরত যেতে পারে পুলিশ।
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান জানান, তার জেলায় ২ হাজার ৩১০ জন সদস্য মতামত জরিপে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র একজন সদস্য বর্তমান পোশাকে থাকতে চেয়ে বাকি সবাই পুরোনো পোশাকে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন। নতুন পোশাক চেয়ে তার জেলার কোনো সদস্য মতামত দেননি।
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ৯৯ ভাগ সদস্য পুরোনো পোশাকে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা প্রতিটি ইউনিট থেকে মতামত নিয়েছি। ৯৯ দশমিক ০২ শতাংশ পুলিশ সদস্য পুরোনো পোশাকে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে মত দিয়েছেন। বর্তমান পোশাকে থাকতে চান শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ ও নতুন পোশাক চান শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ পুলিশ সদস্য।
পোশাক নিয়ে মতামত যাচাইয়ের আগে পুলিশের ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতি দেয়। পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানায় তারা। পরে নন-ক্যাডার সদস্যদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনও একই দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয়।
দুই সংগঠনই আগের খাকি পোশাক বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার একটি কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে খাকি ইউনিফর্ম নির্ধারণ করেছিল। সে সময় দেশের আবহাওয়া, সদস্যদের গায়ের রং, দিনরাতের ডিউটিতে সহজে শনাক্তকরণ এবং অন্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
সংগঠনের নেতাদের দাবি করা হয়, নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব বাস্তবতা ও সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, যথাযথ জনমত যাচাই ছাড়াই এমন একটি পোশাক নির্বাচন করা হয়েছে, যা অন্যান্য ইউনিফর্মধারী সংস্থার পোশাকের সঙ্গে প্রায় অভিন্ন।
এই দুই সংগঠনের বিবৃতির পর সাধারণ পুলিশ সদস্যরাও পোশাক পরিবর্তন নিয়ে সোচ্চার হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জনমত যাচাইয়ের জন্য সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেয়।
এসএস/টিএ