এনডিটিভির প্রতিবেদন / হরমুজ প্রণালী দিয়ে কেবল চীনা জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩৩ পিএম | ০৪ মার্চ, ২০২৬
ইরান জানিয়েছে, তারা শুধু চীনা জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে চীন।
হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরের বন্দরগুলোকে উন্মুক্ত সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই পথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, এখন তাদের প্রণালীর ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং যেকোনো জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো সমুদ্রে প্রবেশের সুযোগ পায়। বিশ্বে উৎপাদিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে চীন ও ভারতের মতো এশিয়ার বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই রুট বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষকে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটি তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদন মতে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীন সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে, উত্তেজনা আরও বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে, হরমুজ প্রণালিতে নৌপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়া থেকে রক্ষা করতে আহ্বান জানাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। চীন এরই মধ্যে ইরান হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদন মতে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত রোববার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক ফোনালাপে এ মন্তব্য করেন।
ওয়াং ই বলেন, একটি সার্বভৌম দেশের শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা এবং সেখানে সরকার পরিবর্তনের উসকানি দেয়া আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে স্পষ্টভাবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
টিজে/টিএ