© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে কুর্দিদের প্রস্তুত করছে সিআইএ

শেয়ার করুন:
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে কুর্দিদের প্রস্তুত করছে সিআইএ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৩১ এএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
ইরানে হামলার পাশাপাশি দেশটির ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে তৎপর হয়েছে উঠেছে। ইরানে গণ-অভ্যুত্থান উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে কুর্দি বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেওয়ার কাজ করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। এ ছাড়া ইরানের ভেতরে এই হামলার খবর ও ট্রাম্পের বার্তা পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ)। এ জন্য ছাঁটাই করা কর্মীদের ফিরিয়ে আনছে তারা।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বিরোধী গোষ্ঠী এবং ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে তাদের সামরিক সহায়তা দেওয়া যায়।

ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কয়েক হাজার যোদ্ধা ইরাক-ইরান সীমান্তে সক্রিয়, বিশেষ করে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কয়েকটি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে আসন্ন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ইরানের সামরিক বাহিনীকে দলত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার তারা জানিয়েছে, ডজনখানেক ড্রোন দিয়ে কুর্দি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কুর্দিস্তানের ডেমোক্রেটিক পার্টির (কেডিপিআই) প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কুর্দি কর্মকর্তা।

আইআরজিসির লক্ষ্যবস্তু হওয়া গোষ্ঠীগুলোর একটি হলো কেডিপিআই। সিএনএনকে ওই জ্যেষ্ঠ কুর্দি কর্মকর্তা জানান, পশ্চিম ইরানে আসন্ন কয়েক দিনের মধ্যে সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইরানি কুর্দি বিরোধী বাহিনী অংশ নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এখন আমাদের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে।’ তিনি জানান, মিলিশিয়ারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

এর আগে গত রোববার ট্রাম্প ইরাকি কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং মিশন অগ্রসর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও কুর্দিরা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিতে চাইলে ইরাকি কুর্দিদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। কারণ, অস্ত্র পরিবহন এবং ইরাকি কুর্দিস্তানকে উৎক্ষেপণক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি তাদেরই দিতে হবে।

আলোচনায় থাকা একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা হলো, কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে তাদের ব্যস্ত রাখবে। এতে বড় শহরগুলোতে নিরস্ত্র ইরানিরা যেন জানুয়ারির অস্থিরতার সময়ের মতো আবারও রাস্তায় নামতে পারে। আরেকটি সূত্র বলেছে, ইরানের উত্তরে কুর্দিরা ভূখণ্ড দখল ও ধরে রাখতে পারলে ইসরায়েলের জন্য একটি বাফার জোন তৈরি হতে পারে।

সিএনএন জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরের মার্চে ভিওএ বন্ধ করে দেয়। তবে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ফেরত আনা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলেন স্টিভ হারমান। ২০২২ সাল থেকে চিফ ন্যাশনাল করসপনডেন্ট ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, ফারসি ভাষা সার্ভিসে যাঁরা কাজ করতেন, তাঁদের ফেরত আনা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে ভিওএর কার্যক্রমে গতি আনতে চায়।

ভিওএর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং সেন্সরশিপ আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানি জনগণ এবং বিশ্বব্যাপী ফারসি-ভাষী প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইছে।

সিএনএন বলছে, ভিওএ এই উদ্যোগের পর সম্প্রতি কী পরিমাণ কনটেন্ট ফারসি ভাষায় তৈরি করেছে তা বোঝা যাচ্ছে না। হামলা শুরুর পর তাদের ইউটিউব চ্যানেলে আটটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জনগণের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রধান বিচারপতি ও অন্তর্বর্তী কাউন্সিলের সদস্য গোলাম হোসেইনী মোহসেনী এজেই। তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে দেশটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সমর্থনসূচক বক্তব্য বা কার্যকলাপ করা যাবে না। এমনটা করলে সেও ইরানের শত্রু হিসেবে বিবেচিত হবে।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন