৫০ দিন পর বদলির আদেশ মানলেন ঠাকুরগাঁওয়ের সেই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৭ এএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
একাধিকবার বদলির আদেশ জারি হলেও তা কার্যকর না করে পূর্বের কর্মস্থলে বহাল থাকা ঠাকুরগাঁওয়ের এক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহমেদ অবশেষে বদলির নোটিশের ৫০ দিন পর নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।
বুধবার (৪ মার্চ) তিনি রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান।
এর আগে গত ১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম আবু হানিফ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে পার্শ্ববর্তী রানীশংকৈল উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে বদলি করা হয়। আদেশে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ থাকলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে পীরগঞ্জেই অবস্থান করেন।
বিষয়টি নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি ‘বদলির এক সপ্তাহ পরও কর্মস্থল ছাড়েননি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা’ এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জনকে তোয়াক্কা করেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা’ শিরোনামে দুই দফায় দেশের একটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর স্বাস্থ্য প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়।
১৯ ফেব্রুয়ারি সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তাকে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করে রানীশংকৈলে যোগদানের জন্য পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি যোগদান না করায় একই দিনে আবারও নোটিশ পাঠানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব হস্তান্তর না করে এবং সিভিল সার্জনকে অবহিত না করে ই-মেইলে নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করা চাকরি বিধির পরিপন্থি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবজ্ঞার শামিল। তার ছুটি নামঞ্জুর করে অতিসত্বর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অন্যথায় বিভাগীয় ব্যবস্থার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছিল, পীরগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ এর কাছ থেকে একটি ডিও লেটার সংগ্রহ করেছিলেন ডা. কামাল আহমেদ।
তবে বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেষ পর্যন্ত তিনি পীরগঞ্জে থাকতে পারেননি বলে জানা গেছে স্থানীয় সূত্রে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পীরগঞ্জেই তার নিজ বাড়িতে ‘কেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অফিস সময়েই ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হতো। হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মচারীরা রোগীদের সেখানে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া গত বছরের ১ ডিসেম্বর হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ আরমিনা আক্তারকে বদলির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে ২৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য বিভাগ ওই আদেশ বাতিল করে তাকে আগের কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশ পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি, ফলে তিনি কার্যত কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ না হয়েও প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ও অনুমোদনহীন ক্লিনিকে সিজারসহ অস্ত্রোপচার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী ডা. কামাল আহমেদকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে তিনি সময়মতো যোগদান করতে পারেননি বলে জানালেও বুধবার তিনি রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন।
এমআই/এসএন