‘মেনোডিভোর্স’ বলতে কী বোঝায়?
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৭ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
মেনোপজের সময় নারীর মনে বিচ্ছেদের কথা জাগলে তাকেই বলা হচ্ছে ‘মেনোডিভোর্স’।
একটা সময় বিচ্ছেদ মানে ছিল- সম্পর্ক শেষ। তবে বর্তমান সময়ে বিচ্ছেদের নানান ‘টার্ম’ যুক্ত হচ্ছে।
চুলে পাক ধরা দুই পরিণত মানুষের আলাদা হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ‘গ্রে ডিভোর্স’, যে দম্পত্তি একসঙ্গে থেকেও তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকে না ‘সাইলেন্ট ডিভোর্স’-এর মতো এবার আলোচিত হচ্ছে ‘মেনোডিভোর্স’য়ের কথা।
মেনোডিভোর্স বলতে যা বোঝায়
‘পেরিমেনোপজ’ বা ‘মেনোপজ’য়ের সময় অনেক নারী, বিশেষ করে ৪৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সি নারীরা কিছু আত্ম-পরীক্ষার পর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ত্যাগ করেন।
এই তথ্য জানিয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়া’তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘নুন’য়ের করা এক পর্যবেক্ষণের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়- ৪৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সি নারীদের মধ্যে প্রতি তিনজনে একজন বিবাহবিচ্ছেদের কথা ভাবছেন। প্রায় ৪৬ শতাংশ ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের উদ্যোগ নিচ্ছেন নারীরাই।
প্রাপ্ত ফলাফলে আরও দেখা যায়- মধ্যবয়সে এসে অনেক নারী নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুখকে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মেনোডিভোর্সের কারণ
ধরা যাক একজন নারী- এক যুগ ধরে সংসার করছেন, ঘর ও চাকরি সামলিয়েছেন ভারসাম্য রেখে, সন্তান বড় করেছেন। তারপর এল মধ্য বয়স। যখন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। ফলে ঘুমের সমস্যা, বিরক্তি, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, ‘হট ফ্লাশ’য়ের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
এসব পরিবর্তন মানসিক শক্তিকে প্রভাবিত করে। বিয়ের পরের যে চাঞ্চল্য ছিল তাতে আসে ভাটা। এই সময় প্রশ্ন জাগে, যার সঙ্গে আছি তার সঙ্গে কী আমার জীবন মেলে?- এই প্রশ্নের উত্তর যদি না হয়, তখনই আসে ‘মেনোডিভোর্স’য়ের বিষয়।
মেনোডিভোর্স সামলানোর উপায়
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সমাধান উল্লেখ করা হয়।
সরাসরি মনের ভাব প্রকাশ: সঙ্গীকে বলতে হবে, ‘আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, চল একসঙ্গে এর একটা সমাধান বের করি।’ দাম্পত্য জীবনে একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ- অনেক সমস্যা দূর করতে পারে।
অন্যদের সাহায্য নেওয়া: মনোবিদের সাহায্য নেওয়া এই সময় কার্যকর। সম্পর্ক-বিষয়ে অভিজ্ঞ এমন মনোবিদের কাছে থেরাপি নেওয়া উপকারী। পাশাপাশি হরমোনোর চিকিৎসকের শরণাপন্না হওয়ারও প্রয়োজন পড়বে।
সংসারের দায়িত্ব ভাগ করা: সংসারের কাজগুলো সমানভাবে ভাগ করে নিতে হবে। দুজনের একই বিষয়ে আগ্রহ আছে এমন কিছু নির্বাচন করে সেগুলোতে অংশগ্রহণ করলে সম্পর্ক উন্নয়ন হয়। অথবা তরুণ বয়সের মতো সঙ্গীর সঙ্গে ‘ডেট’ করতে যাওয়া হতে পারে সহজ সমাধান- হতে পারে সিনেমা দেখতে যাওয়া বা স্মরণীয় রেস্তোরাঁতে খাওয়া।
স্বাস্থ্যের প্রতি নজর: হালকা ব্যায়াম ও ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ নিজের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মন শান্ত করতে ধ্যানও উপকারী। আর এসবের জন্য পেশাদার প্রশিক্ষকের সাহায্য নেওয়া যেতেই পারে।
এমকে/এসএন