© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানের শাহেদ ড্রোন নিয়ে আতঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার করুন:
ইরানের শাহেদ ড্রোন নিয়ে আতঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৫৬ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্যাপিটল হিলে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আইনপ্রণেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ইরানের এই অ্যাটাক ড্রোনগুলো বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকির হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বুধবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বনাত দিয়ে প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্যগুলো উঠে এসেছে। 

বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেছেন, এই ড্রোনগুলো ধারণার চেয়েও বড় সমস্যা তৈরি করছে। মূলত শাহেদ ড্রোনগুলো অত্যন্ত নিচ দিয়ে এবং ধীরগতিতে উড়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে, যা একে প্রথাগত ব্যালিস্টিক মিসাইলের তুলনায় রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দিতে অনেক বেশি কার্যকর করে তুলেছে।

ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি পরিষদের মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিজ  ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন ইসলামিক রিপাবলিক ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন শুরু করা হলো এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এই যুদ্ধে জড়ানো হলো, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রেসিডেন্ট দিতে পারেননি। জেফ্রিজ আরও বলেন, আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ বা ভূখণ্ডের ওপর কোনো আসন্ন হুমকি না থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রশ্নবিদ্ধ। এই অযৌক্তিক সামরিক তৎপরতা অঞ্চলটিতে মার্কিন স্বার্থকে কেবল ঝুঁকির মুখেই ফেলেনি বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী সংকটেরও সূচনা করেছে।

সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য মার্ক কেলি গোলাবারুদ ও ইন্টারসেপ্টর সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমেরিকার কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ অসীম নয়। ইরান বর্তমানে বিপুল পরিমাণ শাহেদ ড্রোন এবং বিভিন্ন পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে একটি কঠিন অংকের হিসাবের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কেলি প্রশ্ন তোলেন, যদি ইরান এভাবে ক্রমাগত ড্রোন হামলা চালিয়ে যায়, তবে মার্কিন বাহিনী কতক্ষণ এবং কোথা থেকে নতুন করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বা গোলাবারুদ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এই রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এখন পেন্টাগনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের একের পর এক ড্রোন এবং মিসাইল হামলার কারণে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা এবং মিত্রদের রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সম্পদগুলোর ওপর ইরানের দফায় দফায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত পর্যুদস্ত করে ফেলেছে। এছাড়া সামরিক বিষয়ক সাময়িকী 'মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন' তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের নতুন ফাত্তাহ-২ হাইপারসোনিক মিসাইল মোকাবিলা করা বর্তমানে বিশ্বের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেই সম্ভব নয়।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি তাদের 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর আওতায় এ পর্যন্ত ১৭ দফা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন তেল আবিব, আল-কুদস এবং কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির দিকে ছোঁড়া হয়েছে। এমনকি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন এবং একটি ডেস্ট্রয়ারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আইআরজিসি ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করায় ওই অঞ্চলে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে।

সূত্র: প্রেস টিভি

এমআই/এসএন  

মন্তব্য করুন