© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এপস্টেইন ফাইল থেকে নজর সরিয়ে নিয়েছে ইরান যুদ্ধ

শেয়ার করুন:
এপস্টেইন ফাইল থেকে নজর সরিয়ে নিয়েছে ইরান যুদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৩৬ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পরপরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বদলে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে এপস্টেইন ফাইল ইস্যু বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল, তা এখন অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ করলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই নথিতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ওই ঘটনায় যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম আলোচনায় আসে। তাদের গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের ওপরও চাপ তৈরি করে।

এ ছাড়া ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। এপস্টেইনের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে অভিযোগও ওঠে, যেখানে তাকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলা হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিকের বিরুদ্ধেও এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন বলে তদন্ত কমিটির প্রধান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন গত সপ্তাহে আইনপ্রণেতাদের কাছে গোপন শুনানিতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তিনি এমন কিছু দেখেননি যা তাকে উদ্বিগ্ন করেছিল। একই কমিটির সামনে এর আগের দিন সাক্ষ্য দেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও।

তবে ইরানে বোমা হামলা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এসব প্রতিক্রিয়া ও প্রকাশিত তথ্যের আলোড়ন ইরানে বোমা হামলা শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করেই দিক বদলেছে। রোববার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি; যিনি গত বছর কংগ্রেসে এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট পাসে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্য প্রান্তের একটি দেশে বোমা ফেললে এপস্টেইন ফাইলগুলো হারিয়ে যাবে না। তিনি এই যুদ্ধের সমালোচনাও করেছেন।

ইরানে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে আল জাজিরা কথা বলেছে অ্যাটলাস গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজির বিশ্লেষক ও সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক শাইয়েল বেন এফ্রাইম-এর সঙ্গে। তার মতে, এই হামলা ও এর সময় নির্ধারণ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর পেছনে খুব বেশি কৌশলগত কারণ নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার তার মেয়াদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আমার মনে হয় মেয়াদের এত শুরুর দিকে এমন খারাপ পরিস্থিতি আগে দেখিনি। আর অর্থনীতি আরও খারাপ হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাই মনোযোগ সরাতে তিনি একটি যুদ্ধের মতো ইস্যু প্রয়োজন অনুভব করছেন।

তিনি আরও বলেন, গুগলে এপস্টেইন ফাইল নিয়ে অনুসন্ধান দেখলে বোঝা যায়, এই হামলা শুরু হওয়ার পর সেগুলো অনেক কমে গেছে। তাই অন্তত সাময়িকভাবে এটি সফল হয়েছে। এই যুদ্ধ কংগ্রেস ও গণমাধ্যমের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিচ্ছে।

বেন এফ্রাইমের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই যুদ্ধের মাধ্যমে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর আশা করতে পারেন। কারণ স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, জুনের মধ্যেই দেশটিতে নির্বাচন ডাকা হতে পারে।

তিনি বলেন, গাজায় গণহত্যার যুদ্ধ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনসমর্থন বাড়াতে খুব একটা সফল হয়নি। কারণ সেখানে প্রতিপক্ষ হামাস তুলনামূলক দুর্বল এবং ইসরায়েলও খুব ভালো করতে পারেনি। তার ভাষায়, ইরান অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী শত্রু।

সূত্র : আল জাজিরা

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন