নওগাঁয় পুলিশের লাথিতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫৮ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথির আঘাতে এক আসামির বৃদ্ধ বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বৃদ্ধ হলেন মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬)। তিনি আসামি এমরান হোসেনের বাবা। স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার মধ্যরাতে মহাদেবপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান ও এএসআই আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে আটক করতে তাদের বাড়িতে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি পালিয়ে যায়। কিন্তু ইমরানকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। এসময় আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া (৮৫) তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।
এছাড়া পুলিশ আসামির বাড়ির দরজা ভাঙচুর করে বলেও ভুক্তভোগীর অভিযোগ রয়েছে। নিহতের নাতি রিপন জানান, তারা দাদা-নাতি এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন, মধ্যরাতে ৫ জন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের লাথিতে তার দাদা মাটিতে পড়ে যান। সেখান থেকে ওঠার চেষ্টা করে আবারও পরে যান। পরে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া জানান, তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আব্দুল হামিদ অত্যন্ত সহজ সরল মানুষ ছিলেন। তার নামে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই। ছেলে ইমরান হোসেনকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাকে লাথি মারলে সেখানেই তিনি মারা যান। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ অন্য আরেকজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এসলামকে গ্রেপ্তার না করে ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম জানান, রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ বাড়িতে ঢুকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। এ সময় আইডি কার্ডের সঙ্গে তার নামের বানানের মিল না থাকায় তাকে আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় মালাহার পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, আফাজ মাস্টারের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাতুন মাস্টার পুলিশের সঙ্গে থেকে তাদেরকে ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম ও সিরাতুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তারা পুলিশের সঙ্গে ছিলেন না।
মহাদেবপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ আসামি ধরতে গিয়েছিল ঠিকই কিন্তু নামের মিল না থাকায় আসামি এসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য আসামি ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে না পেয়ে অন্য আসামি এসলামের বাড়ি দেখানোর জন্য আব্দুল হামিদকে ডেকেছিলেন। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। পুলিশ তাকে কোনো আঘাত করেনি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আব্দুল হামিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারপরও পুলিশের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউটি/টিএ